ঢাকা | শুক্রবার, ১ মে ২০২৬,১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাবিতে ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, শাস্তির দাবি শিবিরেরও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে রিটকারী বাম নেত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং সারাদেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

আজ মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা বারোটায় ঢাবির শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে এ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় তাদেরকে-, ‘নিপীড়কের ছাত্রত্ব, বাতিল করো করতে হবে’; ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘ডাকসু নিয়ে ষড়যন্ত্র, চলবে না চলবে না’; ‘আলী হোসেনের ছাত্রত্ব, বাতিল করতে হবে’; ‘উগ্রবাদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘মৌলবাদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের (ভিপি) সহ-সভাপতি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নারী শিক্ষার্থীদেরকে বারংবার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে। চলাফেরার স্বাধীনতা, পোশাকের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা চরমভাবে হরণ করা করেছে। নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া কুলাঙ্গার আলী হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা প্রশাসন নেয়নি। সে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা কি সুস্থ সমাজ হতে পারে? অতি অল্প সনয়ের মধ্যে এই কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে তাকে একাডেমিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। এই ক্যাম্পাসে আমার বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ছাত্রদলের প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে অনলাইন অফলাইনে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আপনারা সতর্ক থাকবেন। ডাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে৷

একই প্যানেলের (জিএস) সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানভীর বারী হামিম বলেন, যদি কোনো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যদি রগ কেটে নেয় তবে রগ দেবো তবুও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছাড়বো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মাজা ভাঙ্গা প্রশাসন আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মাজা সোজা করে দাঁড়ান, ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে অব্যাহতি নিন।

ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ডাকসু আমাদের প্রাণের দাবি। আমরা সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের কাজ করি। আমরা নারীদের অধিকার রক্ষায় যে রকম তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি একই সাথে অন্যদিকে আমরা ডাকসু নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছি। শিক্ষার্থী সংসদ-১ ও শিক্ষার্থী সংসদ-২ এ প্রতিনিয়ত আমাদের নারী শিক্ষার্থীদেরকে সাইবার বুলিঙ্গ এর শিকার করা হচ্ছে। আমরা একের পর এক স্মারকলিপি দিয়েছি কিন্তু এই প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে, ডাকসু বানচালের ষড়যন্ত্র, নারী হেনস্তা, চবি ও বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ঢাবির বাম সংগঠনের নেত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় জড়িত শিক্ষার্থী আলী হুসেনকে শিবিরের নেতা উল্লেখ করে ছাত্রদলের বিক্ষোভের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শাহবাগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভটি শেষ হয়৷

এর আগে, গতকাল আলী হোসেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঢাবি ছাত্রশিবির। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি শিবির জানায়, আলী হুসেনকে শিবির বলে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের সঙ্গে এই ছেলের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তাছাড়া, ছাত্রশিবির এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ছাত্রদলের প্রচারিত বিবৃতি ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিজেদের দায় এড়াতে তারা শিবিরকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

এদিকে, আলোচনা-সমালোচনার মুখে ফেসবুকে লাইভে এসে আলী হুসেন দাবি করেন, তিনি কোনও দলের সঙ্গে জড়িত নয়। মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি দাবি করেন, তার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য কিন্তু তার অপরাধের কারণে না, তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিবির সম্পৃক্ত করে রাজনীতি করা হচ্ছে।