ঢাকা | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,১৪ কার্তিক ১৪৩৩

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্ক করেছেন, আগামী বছর থেকে পুরোনো মেশিন ব্যবহার করে মুদ্রণকাজ চালালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর কোনো কাজ দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইলে ‘বর্ণমালা প্রেস’ ও ‘গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট’ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি মুদ্রণপ্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাগজের গুণগত মান এবং বইয়ের ছাপার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যবই মুদ্রণের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ নির্ধারিত মান পুরোপুরি বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মুদ্রণযন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতার অজুহাত তুলে বইয়ের মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না। সরকার যে মানের বই সরবরাহের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবশ্যিক কর্তব্য।’

বইয়ের ছাপার মান যাচাই করতে গিয়ে তিনি কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও অ্যালাইনমেন্টের অসঙ্গতি দেখতে পান। এ ধরনের ত্রুটি যাতে অন্যান্য বইয়ে না ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কড়া সতর্কবার্তা দেন। পাশাপাশি মুদ্রণকাজের সামগ্রিক মান নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ের তদারকি আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে কেবল কাজ শেষ করলেই হবে না; প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে মুদ্রিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তাই এ ক্ষেত্রে যেকোনো অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।

তিনি সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আধুনিক ও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রতিনিধি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।