ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি এখন প্লট বাণিজ্যে!

২০০৬ সালে বরিশালে ৫০ একর জমিতে জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই জমি দখল হয়ে এখন প্লট আকারে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি খাস জমি বেহাত হওয়া বিষয়ে পরস্পরকে দুষছেন ভূমি কর্মকর্তারা। এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি, তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার।

বরিশালে ২০০৬ সালে ডেফুলিয়া এলাকায় জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমি ক্ষমতার পালাবদলের পর দখল করে নিয়েছেন একাধিকজন। বর্তমানে সে জমি বিক্রি হচ্ছে প্লট আকারে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত জমি ব্যক্তি মালিকানায় যাবার ব্যাপারে সে সময় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন মরহুম নাসির উদ্দিন। যিনি আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপির আত্মীয়।

সদর উপজেলা বিএনপি বরিশালের আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘পিস্তল মহিউদ্দিন নামে আওয়ামী লীগের এক লোক ও তার শালা নাসির, তিনি এই সরকারি জমিকে অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে তিনি বর্তমানে এটা প্লট আকারে বিক্রি করছে, এটার আমরা নিন্দা জানাই।’

সরকারি এই জমির মালিক এখন অনেকে। প্লট আকারে সে জমি বিক্রি করছেন তারা। যদিও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা দিচ্ছেন নানান যুক্তি।

সাবেক কাউন্সিল ও জমির মালিকানা দাবিদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে একর হয় নাই, ভিত্তি স্থাপন করছিল। আর এই ৫০ একরের মালিক আছে ১০০ জনের উপরে। কিন্তু তার ভেতরে আমরা ১৫ থেকে ২০ জন মিলে কিনেছি ২০ একরের মতো। আমরা সমস্ত মালিকানা কাগজপত্র দেখে আমরা ক্রয় করছি, আমাদের ভেতরে কোনো খাস জমি নেই।’

সরকারি খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় নেয়ার সাথে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতির।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজন বলেন, ‘ভূমিদস্যুরা এই খাস জমি দখল করে নিজ আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখি নাই। এর সঙ্গে যে সকল চক্র আছে, যে সকল ভূমিদস্যু আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।’

বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘যাই হোক উদ্ধার আমরা আমরা প্রচেষ্টা নিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের নামে রেকর্ড হয়েছে, সেই রেকর্ডভুক্ত জায়গাতে আমরা এরই মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। মামলার কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা আশা করি অচিরেই আমরা এই জায়গাটি এই যে উদ্ধার করব।’

ডেফুলিয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত ৫০ একর খাস জমির বর্তমান মালিক বলে দাবি করা ব্যক্তিরা তাদের মালিকানার পক্ষে কাগজ পত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।