ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

জবিতে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা, ফান্ড তুলে গরু জবাইয়ের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পশু জবাই না করার নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে শুক্রবার রাতে গরু জবাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। জকসুসহ জবির বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ফেসবুক পোস্টে গরুভোজে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন লিংক শেয়ার করেন। এজন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ৭০ টাকা করে নিচ্ছেন তারা। তবে জকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গরু ভোজের আয়োজন তাদের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে না।

জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জকসু কিংবা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই মূলত ব্যবস্থাপনায় আছেন। তবে আমরা তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

তবে নির্দেশনা জারি করা হলেও শিক্ষার্থীদের পশু জবাইয়ের বিষয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যদি পশু কোরবানির আয়োজন করতে চায় তবে আমাদের এতে স্ট্রং কোনো আপত্তি নেই। তবে সামনে পূজা তাই আমরা চাচ্ছিলাম না ক্যাম্পাসে এ ধরনের আয়োজন হোক।’

এর আগে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে স্নাতক (সম্মান) কোর্স সম্পন্ন হওয়া উদযাপন করতে ক্যাম্পাসের মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মন্দিরের পাশে থাকা ইট ব্যবহার করে রান্নার জন্য চুলা তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানালে তারা সেখান থেকে সরে এসে অন্য জায়গায় রান্না সম্পন্ন করে। রান্নার সময় হিন্দু শিক্ষার্থীরা মন্দিরের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলে বিবৃতি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন রান্নার আয়োজকরা।

তারা বিবৃতিতে বলেন, ইটগুলো যে মন্দিরের, তা তারা জানতেন না। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় রান্নার পরিকল্পনা থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রান্নার নির্ধারিত স্থানে এক শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে তারা অন্য জায়গায় চলে যান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইটগুলো মন্দিরের জানতে পেরে তারা সেগুলো সরিয়ে নেন এবং কাফেটেরিয়া থেকে আনা লোহার চুলায় রান্না শুরু করেন।