ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবিতে শিক্ষকপুত্রের গাড়ির ধাক্কায় ৬ শিক্ষার্থী আহত

ঢাবিতে শিক্ষকপুত্রের গাড়ির ধাক্কায় ৬ শিক্ষার্থী আহত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মূল ফটকের সামনে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, দুর্ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এফবিএস মেইন গেট এলাকায়। আহত ছয় শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়। তাদের হাত-পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে যাওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দেয়া হয়। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় এক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে অক্সিজেন সাপোর্টও দিতে হয়। এক্স-রে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তাদের হাড় ভেঙেছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাড়িচালক সাদমান সাকিবের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তিনি ক্যাম্পাসের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং এদিনই প্রথমবার গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া এমন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর ফলে ছয়টি তরুণের জীবন আজ হুমকির মুখে।

এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা বা ড্রাইভিং টেস্টিং প্রতিষ্ঠান নয়। ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা বলেন, ছয়টা জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও যদি আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমাদের শিক্ষা ও বিবেকের ওপর আমরা কী নিয়ে গর্ব করব?

শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযুক্তের কোনো পরিচয়, পদবি কিংবা পারিবারিক প্রভাব যেন ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

এদিকে, অভিযুক্তের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এ দুর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।