ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে লাকড়ি ব্যবহার করে রান্না করতে হচ্ছে। এতে রান্নার সময় ও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি ক্যান্টিনে খাবারের দামও ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা। একটানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
ক্যান্টিন মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনের বেশির ভাগ সময় পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাসের তুলনায় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বেশি সময় লাগে। একই সঙ্গে চুলার অতিরিক্ত তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে ক্যান্টিনের বাবুর্চি ও কর্মচারীদের।
স্যার এএফ রহমান হলের ক্যান্টিন মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার লাকড়ি কিনতে হচ্ছে। আগে গ্যাসে দ্রুত রান্না শেষ করা সম্ভব হলেও লাকড়ির চুলায় একই কাজ করতে অনেক বেশি সময় লাগে। ফলে দুপুরের রান্না শেষ করার পর কর্মীদের যে বিশ্রামের সময় থাকত, সেটিও কমে গেছে। দীর্ঘ সময় তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করায় কর্মীরা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
মাস্টারদা সূর্যসেন হল ক্যান্টিনের পরিচালক মোহাম্মদ আলী রাজুও প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকার লাকড়ি ব্যবহারের কথা জানান। তার ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় বা হল প্রশাসনের মাধ্যমে করা হলেও বর্তমানে লাকড়ির অতিরিক্ত খরচ ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হচ্ছে। এতে খাবারের মান ও দাম—দুই দিকেই চাপ তৈরি হচ্ছে। সংকটকালীন সময়ে ক্যান্টিনগুলোকে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জ্বালানি ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
গ্যাস সংকটের কারণে স্যার এএফ রহমান হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলের ক্যান্টিনে মুরগি, হাঁস ও গরুর মাংসসহ কয়েকটি খাবারের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবজি ও ডিমের মতো কিছু খাবারের দামও আগের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী আক্রাম হোসেন বলেন, গ্যাস সংকট শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নয়; সারা দেশেই এর প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন শিল্প-কারখানাও সমস্যায় পড়েছে।
তিনি জানান, এর আগে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সময় তিতাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আবারও চিঠি দেওয়া হবে। তার মতে, গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মূল উৎস থেকেই গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় শুধু চাপ বাড়ানোর অনুরোধ করে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
গ্যাস সংকটের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অনেক সময় টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমের মধ্যে এতে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়ছে।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী সাজিদ আবরার বলেন, তীব্র গরমের মধ্যেও রাত-বিরাতে আবাসিক হলে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, চার বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকলেও আগে এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখেননি। সম্প্রতি হঠাৎ করেই এ ধরনের সমস্যা শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করা হবে। হলগুলোতে লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্যাস সংকটের কারণে ক্যান্টিন মালিকদের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য।





