ঢাকা | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান, অনড় প্রাথমিকের শিক্ষক প্রার্থীরা

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। সব জেলায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শাহবাগে অবস্থানরত নিয়োগপত্র না পাওয়া একাধিক চাকরিপ্রার্থী এ কথা জানান।

তারা বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বাকি ৬১ জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সব জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবেন।

তারা আরও বলেন, সারাদেশে মোট ২ হাজার ৪৬১ জনকে নিয়োগপত্র না দেওয়ায় তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এখন অনেক জেলায় দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।

অন্য কোনো কর্মসূচি আছে কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, আপাতত শাহবাগে অপেক্ষা করবেন। পরবর্তী কর্মসূচি পরে জানানো হবে।

এর আগে তাদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গেছেন। সেখানে নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরার কথা ছিলো। কিন্তু সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় তারা শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তাদের অবস্থানে চলে আসে। এরপরে তারা ব্লকেড কর্মসূচি পালন না করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন।

আজ রোববার সকালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। তারপরে রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগপত্র না পাওয়া এনব প্রার্থীরা।

তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। এ দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে ৬১ জেলায় ২৪৬১ প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও সভায় জানানো হয়।

এ বিষয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন। ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।