সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এনএসআই, ডিএসবি পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এমনিতেই নানা অনুন্নত পরিস্থিতি বিরাজমান, যার ওপর ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষক সংকটের এমন সংকটময় মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মেধা তালিকার প্রার্থীদের বাদ দেওয়াকে অত্যন্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান, যিনি ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, নিজের আকুতি প্রকাশ করে বলেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিগত ৮ মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিকভাবে ভুগেছি। অবশেষে চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে যেন আকাশে কালো মেঘ নেমে এসেছে। আমার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই, থানাতেও কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই।
একই গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মিয়া জানান, তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে পরিবার চালান। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার নাম বাদ পড়েছে শুনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের মেধা তালিকায় থাকা সামন্ত কুমার দাস বলেন, উপজেলায় মেধা তালিকায় ৯ম স্থানে ছিলাম। অথচ অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে নিয়োগ তালিকায় আমার নাম অনুপস্থিত। দীর্ঘ ৮ মাসের প্রতীক্ষা শেষে যোগদানের সকল পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এখন আমি পুরোপুরি ভাষাহীন। আমি কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নই এবং আমার নামে কোনো মামলা-হামলাও নেই।
বঞ্চিত প্রার্থীরা শনিবার জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং জড়ো হয়ে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত চালিয়ে তাদের দ্রত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আ্রপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনেকে বাদ পড়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে, তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে কথা বলছেন। আমরাও চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকারের পক্ষে যতটুকু আইনি সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করব। আশা করি দ্রুত এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।






