বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ছয়টি লিভার (যকৃত) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হবে। বছরে অন্তত ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সফল ছয়টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে চারটি এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুটি সম্পন্ন হয়। সরকারি বরাদ্দের আওতায় রোগীদের এসব অস্ত্রোপচার সরকারি অনুদানের অর্থে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হয়েছে। লিভার গ্রহণকারী ছয়জন রোগী এবং লিভারদাতা—সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন। এ ছাড়া আরও চারজন রোগীর জন্য লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি ও রোগী নির্বাচনের কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সরকারি অনুদান যত দিন আছে, তত দিন রোগীরা বিনা মূল্যে এই চিকিৎসা পাবেন। না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারে ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হবে। ভারতে এটা ৪০ লাখ টাকার মতো পড়ে।
উপাচার্য অধ্যাপক বলেন, লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে স্থায়ী ও গতিশীল রূপ দিতে বর্তমান প্রশাসন বিশেষ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস ও অধ্যাপন মো. মোহছেন চৌধুরীর নেতৃত্বে লিভার প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারে বহুমাত্রিক পদ্ধতির (মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ) একটি দক্ষ টিম গড়ে তোলা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বিএমইউর লক্ষ্য প্রতি মাসে ২টি এবং বছরে ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপন করা। পরবর্তী সময়ে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শাহিনুল আলম বলেন, দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের কোনো না কোনো ধরনের লিভারের সমস্যা আছে। বছরে প্রায় এক হাজারের মতো মানুষের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট দরকার। দেশে এই অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা না বাড়লে অনেক মানুষ দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি, হেপাটোলজি এবং অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনসহ ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ট্রান্সপ্লান্ট দল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি সহযোগিতা দেয়।






