ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাইব্যুনালে এসআইয়ের জবানবন্দি / ওসি-এসপির ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটকে’ পঙ্গুত্ব বরণ করেন দুই শিবির নেতা

যশোর জেলার চৌগাছায় ২০১৬ সালে পুলিশ দুই শিবির নেতাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাদের থানা হাজতে আটক রাখে। পরে ওসি ও এসপি ষড়যন্ত্র করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুই শিবির নেতার পায়ে গুলি করে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রেখে দেয়। পায়ে পচন ধরলে দুজনেরই এক পা কেটে ফেলতে হয়। পুলিশি নির্মমতার শিকার হয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে হয় শিবির নেতা ইসরাফিল ও রুহুল আমিনকে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে। ঘটনার সময় চৌগাছা থানায় কর্মরত এসআই মমিনুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে এসব তথ্য দেন।

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে এসআই মমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৩ বছর। আমি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যশোর জেলার চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলাম। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট এসআই মোখলেছুর রহমান, জামাল হোসেন, আকিকুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম এবং এএসআই সিরাজুল ইসলাম দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আসেন। আমি তাদের নাম জিজ্ঞাসা করলে একজনের নাম ইসরাফিল এবং অপরজনের নাম রুহুল আমিন বলে জানায়। তখন আমি তাদের নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে লিখতে গেলে তারা নিষেধ করে বলে, দুজনকে থানা হাজতে রাখেন। তাদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরে ওসি স্যারকে বলি, আমি ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছি। তাদের নাম রেজিস্টারে না লিখে হাজতখানায় রাখতে পারব না। তখন ওসি স্যার আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, আমি যা বলি তাই কর। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাদের হাজতখানায় পাঠাই। ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দুজনকে ওসি স্যারের রুমে নিয়ে মারধর করা হয়।

জবানবন্দিতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরদিন রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার দিকে একজন কনস্টেবল এসে জানায়, বন্দুলীতলায় বন্দুকযুদ্ধে আমাদের দুইজন কনস্টেবল আহত হয়েছে। আমি ডিউটি অফিসারের রুমে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয়, গতকাল যে দুইজনকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। পরে জানতে পারি, এটা ছিল পরিকল্পিত নাটক।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে জানতে পারি, ওই দুইজনের পায়ে পচন ধরলে তাদের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়। তাদের অবৈধভাবে গ্রেপ্তার, মারপিট ও পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার ঘটনায় এসপি আনিসুর রহমান, ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছুর রহমান, এসআই জামাল উদ্দিন, এসআই আকিকুল ইসলাম, এএসআই মাজেদুল ইসলাম, কনস্টেবল জহুরুল এবং কনস্টেবল সাজ্জাদ সরাসরি জড়িত।

এসপি আনিসুর রহমান স্যারের সময় যশোর জেলায় আনুমানিক ৫০ জনের অধিক ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য ভিন্ন মতাবলম্বী যুবককে এভাবে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তাদের কেউ কেউ চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়।