বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ। নতুন বউকে নিয়ে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস ছুটছিল বরের বাড়ির পথে। গাড়িতে তখন বিয়ের আনন্দ, স্বজনদের কোলাহল। কিন্তু পথেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। হঠাৎ একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করে। অভিযোগ, এরপর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নববধূকে জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়ে যায় তারা।
বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে আতিকুর রহমান মিয়াদের নাম এসেছে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার বিয়ে হয়। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ে শেষে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা। পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক তাদের গাড়ির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটি ঘিরে ফেলেন। পরে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে বরযাত্রীদের অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি।
ঘটনার পর নববধূ তামান্না আক্তার ও অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের কথিত প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা ছিল।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি ছাত্রদলের কর্মী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে তিনি ডিউটি পাস পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব জানান, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী। তবে কীভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ডিউটি পাস পেয়েছিলেন, সেটা আমি বলতে পারব না।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ জানান, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের ভালো কর্মী। তবে সে যে কাজ করেছে, সেটা অন্যায়। গতকালকের ঘটনার আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, আমরা জানতে পেরেছি, ওই মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়া হয়নি। এ কারণেই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।





