শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা-নির্ভর পদ্ধতি ও উদীয়মান প্রযুক্তিকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এমন জনশক্তির প্রয়োজন হবে, যাদের নিজ নিজ বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতাও থাকবে। তাই শিক্ষার্থীদের আধুনিক কর্মজগতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্পখাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। একইভাবে শিল্পখাতের কাছেও বিশ্ববিদ্যালয় শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; গবেষণা, উদ্ভাবন, জ্ঞান সৃষ্টি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়কে অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান দেওয়া নয়। তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা, নৈতিক সচেতনতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
শিল্প-একাডেমিয়া সম্পর্ককে শুধু সেমিনার, ইন্টার্নশিপ কিংবা নিয়োগ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন উপাচার্য।
তিনি বলেন, শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, দক্ষতা বিকাশ, ইন্টার্নশিপ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা, পরামর্শক কার্যক্রম, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়কে শিল্পখাতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প-সংযুক্ত একাডেমিক প্রোগ্রাম ও গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহের কথা জানান। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মজগতের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষক-শিল্পখাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন কুবি উপাচার্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও গ্রিন টেকনোলজির মতো বিষয়কে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিল্প ও একাডেমিয়ার অংশীদারিত্ব শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যৌথ গবেষণা প্রকল্প, ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পখাত পরিচালিত প্রশিক্ষণ, শিক্ষাক্রম যৌথভাবে উন্নয়ন, শিক্ষক-শিল্পখাত সম্পৃক্ততা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে রূপ দিতে হবে।
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা সমাজের সঙ্গে সংযুক্ত, শিল্পখাতের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া প্রদানকারী, উদ্ভাবনের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল এবং টেকসই উন্নয়নে নিবেদিত।’
গোলটেবিল আলোচনায় শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দক্ষতা, শিল্পখাতের গবেষণা-চ্যালেঞ্জ এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিল্পখাতের সমস্যা সমাধান ও উদ্ভাবনে নিজেদের জ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।”






