ঢাকা | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিলো বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা পুরোপুরি বাংলাদেশের। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৮১। বিরতি থেকে ফিরেই লিডের দেখা পায় বাংলাদেশ। ক্রিজে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।

প্রথম দিন শেষে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শুরুটা কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে বোলিং করান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক—তিন পেসার থাকা সত্ত্বেও নতুন বলে আক্রমণে আনা হয় বো ওয়েবস্টারকে। তবে তাতে দমে যাননি মুমিনুল-তানজিদ। ধীরে ধীরে জুটি বড় করতে থাকেন দুজন, কামিন্স-স্টার্কের গতি ও বাউন্স সামলে খেলেন যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে।

সেশনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তানজিদের প্রথম টেস্ট ফিফটি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই অর্ধশতক নিশ্চয়ই বাঁহাতি ওপেনারের কাছে বিশেষ কিছু। ফিফটির পর তানজিদের ব্যাট আরও সাবলীল হয়ে ওঠে—ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে মারেন ইনিংসের প্রথম ছক্কা। মুমিনুল-তানজিদের জুটি একসময় পেরিয়ে যায় ১০২ রান, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে (২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার-হান্নান সরকারের ১০৮ রানের জুটির পর)।

তবে সেঞ্চুরির স্বপ্ন নিয়ে এগোতে থাকা মুমিনুল ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৯৫ বলে ৪৯ রানে থাকা অবস্থায় জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল তাড়া করতে গিয়ে অ্যালেক্স ক্যারিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ভাঙে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস টেনে নিয়ে যান তানজিদ। উল্লেখযোগ্য বিষয়, নাথান লায়নের বলে ৬২ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে তানজিদের একটি ক্যাচ ফেলেন স্টিভেন স্মিথ, যা কাজে লাগিয়ে ইনিংস আরও লম্বা করেন তরুণ ওপেনার।

লাঞ্চ পর্যন্ত তানজিদ ১৪৪ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত, মেরেছেন ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। শান্ত অপরাজিত ২৮ রানে, ৪০ বলে ৩টি চারের সাহায্যে। শেষ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ, যা প্রমাণ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন সফরকারীদের হাতে।