রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সাইমন। ব্রেইন স্ট্রোক করার পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাইমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাইমনের সহপাঠীরা জানায়, গত ৮ আগস্ট রাতে ছাত্রাবাসে অবস্থানকালে হঠাৎ খাট থেকে পড়ে যান সাইমন। তার শরীর শক্ত হয়ে গেলে সহপাঠীরা বিষয়টি টের পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, সাইমন ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। এর আগেও তার দুবার স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল। রামেকে প্রয়োজনীয় জটিল অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় এবং রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। পরিস্থিতির জরুরি বিবেচনায় রাবি উপাচার্যের উদ্যোগে ৯ আগস্ট সকালে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সড়কপথে দীর্ঘ সময় ও ঝুঁকির কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিল।
সাইমনের সহপাঠীরা জানান, ঢাকা নেয়ার পর তাকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, খবরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সাইমনকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরাও তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তার এ অকালমৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
এদিকে, মেধাবী এ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর খবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগসহ পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর স্তব্ধতা।





