ঢাকা | শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ঝুলে থাকা প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নে সুখবর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও গত পাঁচ মাস ধরে ঝুলে থাকা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর জন্য অবশেষে সুখবর আসছে। তাদের যোগদান ও পদায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

আগামীকাল রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষ সভা ডেকেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। গত ২৪ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এই সভা ডাকা হয়।

এতে বলা হয়েছে, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত সব শিক্ষকের বদলি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও পর্যালোচনা করে নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির সভা আগামী ২৮ জুন বিকেল ৩টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে তার অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা, পর্যালোচনা এবং নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সে হিসেবে এটিই এ কমিটির প্রথম সভা।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, নতুন কমিটির প্রথম সভায় বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে। তবে প্রথম দিনই যোগদানের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।