শখের বশে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা। আঞ্চলিক সড়ক ছাড়িয়ে মহাসড়কেও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে তারা। ট্রাফিক আইন না মানায় এবং হেলমেট ব্যবহার না করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।
মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে সরেজমিনে সম্প্রতি এমন চিত্র দেখা গেছে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের আকরাম বেপারীর ১৫ বছরের ছেলে ইয়াসিন। অসুস্থ রোগী নিয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সে এসেছে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। সে হরহামেশাই মহাসড়কে গাড়ি চালায়। অন্যদিকে ১০ বছরের এক শিশু তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, কারও মাথায় হেলমেট নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কোনো উত্তর দিতে পারেনি।
ইয়াসিন জানায়, সে তার বাবার কাছ থেকে প্রাইভেটকার চালানো শিখেছে। দুই থেকে তিন মাস ধরে মহাসড়কে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করছে সে। সড়কে শিশু-কিশোরদের গাড়ি চালানো নিষেধ, এরপরও কেন চালাচ্ছে- এমন প্রশ্নে ইয়াসিন জানায়, বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত সে আর প্রাইভেটকার চালাবে না। এ ঘটনার জন্য ক্ষমাও চায় সে।
একাধিক শিশু-কিশোর জানায়, মূলত শখের কারণে তারা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে এমন যানবাহন চালাচ্ছে। বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে তারা বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে সড়কে নামছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ সড়ক এখন ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সি স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের দখলে। এদের অনেকের বাবা প্রবাসী হওয়ায় তারা সহজেই যানবাহন চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে এমন যানবাহনের দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে অনেকেই।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘বাবা বিদেশে থাকায় একশ্রেণির কিশোর বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়েই কেনা হচ্ছে মোটরসাইকেল। আর এসব যান নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা, যার কারণে বাড়ছে কিশোর গ্যাং।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণসচেতনতা বৃদ্ধি করে এই অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ মামলা দিচ্ছে হাইওয়ে ও জেলার ট্রাফিক পুলিশ। তারপরও এমন অপরাধ কমছে না।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘পুলিশ প্রতিদিন আলাদা জায়গায় ভাগ হয়ে ট্রাফিক আইনে মামলা দিচ্ছে। কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে শিশু-কিশোরদের এমন অপরাধ কিছুতেই থামানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’






