ঢাকা | শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আগের দামেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন যে ২ শ্রেণির গ্রাহক

সারাদেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মাঝেই এক বড় স্বস্তির খবর এলো। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষকে বাড়তি বিলের চাপ থেকে রেহাই দিতে আবাসিক খাতের দুই শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (Bangladesh Energy Regulatory Commission – BERC)। ফলে আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। আজ (বৃহস্পতিবার, ৪ জুন) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ অনুরোধে আবাসিক খাতের শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট (লাইফলাইন) এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট (প্রথম ধাপ) পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বর্ধিত মূল্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। বিইআরসি সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিদ্যুতের দাম সংশোধন (Electricity Price Revision) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন।

কোন ২ শ্রেণির গ্রাহক আগের দামে বিদ্যুৎ পাবেন?

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আবাসিকের প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিইআরসির কাছে আবেদন করেছে। এই দুই শ্রেণির গ্রাহকেরা হলেন:

১. লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৬৯ পয়সা বৃদ্ধি বাতিল হওয়ায় এই শ্রেণির গ্রাহকেরা আগের রেট প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা হারেই বিল পরিশোধ করবেন। এতে তাদের মাসে বাড়তি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা গুণতে হবে না।

২. প্রথম ধাপের গ্রাহক (০-৭৫ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৯২ পয়সা বৃদ্ধি প্রত্যাহার হওয়ায় এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের দাম প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকছে। ফলে তাদের মাসে বাড়তি ৬৯ টাকা বিলের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়া হলো।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, সব বিতরণ কোম্পানির পক্ষ হয়ে পিডিবি এই বিদ্যুতের দাম সংশোধন এর আবেদন করেছে এবং কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

সংশোধন না হলে কার কত বিল বাড়ত?

গতকাল বুধবার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের নতুন দাম (New Electricity Tariff) ঘোষণা করা হয়, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। সেখানে পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫%, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬% এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮% দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর যে চাপ পড়ত:

লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি দাম ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল, যাতে মাসে বিল বাড়ত ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।

প্রথম ধাপের গ্রাহকদের (০-৭৫ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি দাম ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল, যাতে মাসে বিল বাড়ত ৬৯ টাকা।

দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। দাম সংশোধন করা হলে লাইফলাইন গ্রাহকেরা আগের রেট প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীরা প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা হারে বিল দিতে পারবেন।

পাইকারি ও উচ্চ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত

প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করা হলেও অন্যান্য সব শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য গতকাল ঘোষিত বর্ধিত মূল্যই কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ এবং উচ্চ ও বাণিজ্যিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত মূল্য চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

আগের কম দামেই বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছেন ২ শ্রেণির গ্রাহক