শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ড্রাইভ মাই কার লুকিং দ্য রিয়ার ভিউ মিরর অ্যান্ড পুটিং মাই কার ইন রিভার্স গিয়ার।’
তার এই বক্তব্য মূলত প্রায় দেড় যুগ আগের নিজের কর্ম ও পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে। বিগত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে শিক্ষার উন্নয়নে যেসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, বর্তমানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেখেছেন, কে যেন শিক্ষার অগ্রগতির গাড়িটিকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমন উক্তি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করছেন ড. মিলন।
এদিকে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সময়কাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। সভায় মন্ত্রী থাকবেন। আরো থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে কিছু দিন ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, সরকার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করতে পারলে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বেঁচে যায়। এইচএসসি পরীক্ষার পর কেবল ভর্তি পরীক্ষার প্রসেসটার কারণে ২০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে ৪০ লাখ বছর হারিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই শেষ হবে। এরপর তারা জানুয়ারিতে সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে। এতে দুই বছরের মধ্যেই তাদের কারিকুলাম ও সিলেবাস সম্পন্ন হবে।’
ডিসেম্বর অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস, যা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসময় বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা নিতে হবে এবং দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।’
তার মতে, শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করবে, ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করবে এবং কোনো সেশন জট ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে।
এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মি টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।






