ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬,২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মা-ছেলে

নাটোরের লালপুরে একসঙ্গে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মা ও ছেলে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ৪০ বছর বয়সে পরীক্ষার হলে বসেছেন ফুলঝড়ি বেগম। তার পাশে পরীক্ষার্থী হিসেবে রয়েছেন ছেলে মনিরুল ইসলাম (১৫)।

মা-ছেলের বাড়ি উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে। তারা দুজনই মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা উপজেলার মধুবাড়ি দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, ফুলঝড়ি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক, কখনো আবার দিনমজুরের কাজ করেন। সীমিত আয়ের সংসারে সংগ্রাম করেই সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বড় মেয়ে ইতোমধ্যে নার্সিং শেষ করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় ফুলঝড়ি বেগম সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আর পড়াশোনা করা হয়নি। সংসার আর সন্তান মানুষ করতেই সময় কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল এসএসসি পরীক্ষা কেমন হয়, সেটা দেখার। এই বয়সে এসে ছেলে ও পরিবারের সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা গ্রামের অনেকে কটু চোখে দেখছে, নানা রকম কথা বলছে। তবে এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

ছেলে মনিরুল ইসলাম বলে, ‘আমার খুব ভালো লাগছে মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরে। মা আমাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। এখন মাকে পড়াশোনা করতে দেখে আমি আরও উৎসাহ পাই। আমি চাই মা ভবিষ্যতেও পড়াশোনা চালিয়ে যাক।’

ফুলঝড়ি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শিক্ষিত মা-ই পারে শিক্ষিত জাতি গড়তে। তাই স্ত্রীর পড়াশোনার ইচ্ছায় আমি বাধা দিইনি। ভ্যান চালিয়ে আর দিনমজুরি করে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসারের পাশাপাশি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছি। সে যতদূর পড়াশোনা করতে চায় আমার কষ্ট হলেও আমি তাকে পড়াশোনা করাবো।’

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘এটি শুধু লালপুর নয়, পুরো দেশের জন্য নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক একটি দৃষ্টান্ত। বয়স কখনোই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষা অর্জন সম্ভব। এই ঘটনা বয়স্ক শিক্ষাকে উৎসাহিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি ফুলঝুরি বেগম আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তার পড়াশোনার প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’