ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬,২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রশ্নফাঁসের সত্যতা মিলেছে, গণিত পরীক্ষা ফের নিচ্ছে কেমব্রিজ

কেমব্রিজের ভাষ্য, পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য ফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ফলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকবে।

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (সিআইই) ফাঁস হওয়া এএস-লেভেল গণিত পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ জুন।

গত ৩০ এপ্রিল কেমব্রিজ নিশ্চিত করে যে এএস-লেভেল গণিতের একটি প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে ‘প্রিম্যাচিউরলি শেয়ার’ বা অনিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশ্নপত্রটি আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কেমব্রিজ জানায়, তাদের জ্যেষ্ঠ মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে গণিত (9709/12) কোডের পরীক্ষাটি নতুন প্রশ্নপত্রে আবার নেওয়া হবে।

সংস্থাটি বলেছে, আগের প্রশ্নপত্রটি চূড়ান্ত ফল তৈরিতে ব্যবহার করা হবে না।

কেমব্রিজের ভাষ্য, পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য ফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ফলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকবে।

সিআইই জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষা আগামী ৯ জুন, মঙ্গলবার, জুন সিরিজের পরীক্ষার সময়সূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন স্কুলপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

পরীক্ষার্থীদের বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এ জন্য অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ১১ আগস্ট অপরিবর্তিত থাকবে।

কেমব্রিজ আরও জানিয়েছে, ১৫ মে’র মধ্যে স্কুলগুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হবে। এতে নতুন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরীক্ষা পরিচালনার প্রক্রিয়া এবং প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলির তথ্য থাকবে। পাশাপাশি জুন ২০২৬ সেশন থেকে প্রত্যাহার ও নভেম্বর ২০২৬ পরীক্ষার নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয়ও জানানো হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সক্রিয় তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে কেমব্রিজ। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিআইই বলেছে, গোপন পরীক্ষাসামগ্রী ফাঁস বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের স্থায়ীভাবে কেমব্রিজের পরীক্ষা ও সনদ কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

কেমব্রিজ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই প্রশ্নফাঁসের খবর ছড়ালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো মিথ্যা হয়। তবে তারা নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রশ্নপত্র বিক্রি বা শেয়ারের চেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তথ্যসূত্র: দ্য ডন