ঢাকা | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬,৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে আবার যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: যুক্তরাষ্ট্র

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছে। হেগসেথ বলেছেন, ইরানের এখন আর কোনও নৌবাহিনী নেই। যে কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ ততদিন জারি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং তিনি বেঁচে আছেন।

যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই সময় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি সেরে উঠছেন।

তেহরানকে চুক্তি স্বাক্ষরে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে প্রবেশকারী কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করছে।

পিট হেগসেথ বলেন, ইরান, তোমরা একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও সোনালি সেতুবন্ধন বেছে নিতে পারো এবং আমরা আশা করি তোমরা ইরানের জনগণের স্বার্থে সেটিই করবে। তিনি বলেন, কিন্তু ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তাহলে তাদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতর বোমা হামলার মুখোমুখি হবে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তেহরান যদি অবাধ্যতা অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করা হবে।

ইরানের ক্ষমতাসীন নেতাদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, এটি কোনও সমান শক্তির লড়াই নয়। আপনারা কোন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরাচ্ছেন এবং কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনও মুহূর্তে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী যেকোনও জাহাজ অথবা ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন যেকোনও জাহাজকে ধাওয়া করবে।

অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী সব জাহাজকে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হবে যে, যদি আপনারা এই অবরোধ না মানেন, তাহলে আমরা শক্তি প্রয়োগ করব। তিনি বলেন, ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।

কেইন বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও জাহাজে জোরপূর্বক তল্লাশি চালানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।