ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

চীনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের

সাম্প্রতিক যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল ইরান। এ সময় দেশটি চীনের একটি গোয়েন্দা (স্পাই) স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথি অনুযায়ী, ‘টিইইস-০১বি’ নামের এ স্যাটেলাইটটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তীতে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।

স্যাটেলাইট ইমেজ ও কক্ষপথ বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা এ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালিয়েছে। গত মার্চে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে এবং পরে এসব ছবি তোলা হয়েছিল।

নথি অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবের ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’-এর ছবি তোলে স্যাটেলাইটটি। গত ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন যে, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানে হামলা হয়েছে। এছাড়া জর্ডান, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও জিবুতিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতেও এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নজরদারি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির ‘নূর-৩’ স্যাটেলাইটের চেয়ে চীনা স্যাটেলাইটটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি আধা-মিটার রেজ্যুলেশনে ছবি তুলতে সক্ষম, যা দিয়ে স্পষ্টভাবে উড়োজাহাজ, যানবাহন এবং অবকাঠামোর পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো ইউনিভার্সিটির ইরান বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, ‘এ স্যাটেলাইটটি স্পষ্টভাবে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুদ্ধের সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং হামলার সফলতা যাচাই করতে ইরানের এ বিদেশি প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল।’

চীনা কোম্পানি ‘আর্থ আই কোং’ এ স্যাটেলাইটটি তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছে। এ চুক্তির ফলে বেইজিং-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এমপোস্যাট’-এর গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পায় আইআরজিসি।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হয়েও চীনের তৈরি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান যেভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নজরদারি ও হামলা চালিয়েছে, তা ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।