ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কিরগিজস্তানের ভিসা জটিলতা: দেশে ফিরে আটকা অর্ধশত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ভিসা জটিলতায় পড়েছেন কিরগিজস্তানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বাংলাদেশি অর্ধশত শিক্ষার্থী। প্রশাসনিক কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশে এসে আটকা পড়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও ফেরার সময় ভিসার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে দেশটি। যাদের অনেকের ২ বছরে খরচ হয়েছে ২০ লাখ টাকার বেশি। দেশে আটকা পড়ায় অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ।

ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে কিরগিজস্তানে পড়তে গিয়েছিলেন আব্দুস সাত্তার। ৪ সেমিস্টার শেষ করতে খরচ হয় তার প্রায় ১৫ হাজার ডলার। বাবার পেনশনের টাকায় সেই ব্যয় মেটালেও পুরো সেমিস্টার ফি জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। টিউশন ফি কমাতে সিদ্ধান্ত নেন প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের। এতেই বাধে বিপত্তি। নতুন ভিসা করতে দেশে এলে বন্ধ হয়ে যায় তার পুনরায় ফেরার পথ। প্রায় এক বছর ধরে দেশে আটকে আছেন এই শিক্ষার্থী।

সাত্তার নামের শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ ছুটিতে আমি দেশে চলে আসি। যখন আমি ফেরত যাব তখন আমার ভিসার মেয়াদ শেষ। নতুন ভিসার জন্য যখন আমি আবেদন করি তখন দেখি আমার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।’

সাত্তারের মতো প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী পড়েছেন ভিসা জটিলতায়। দেশে আটকে আছেন প্রায় ত্রিশজন। নিজেদের ফিরতে না পারার কারণ জানালেন।

শাহনাজ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এতগুলো সেমিস্টারে এতগুলো টাকা দেয়ার পর এখন আমাদের সামনে কি আছে তা অনিশ্চিত। আমরা জানি না কবে এর সমাধান পাবো।’

প্রশাসনিক কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অল্প সময়ের জন্য দেশে আসেন তারা। ফেরার সময় ভিসার আবেদন করলে আটকে দেয় দেশটি। যদিও অনেকেই এমবিবিএস কোর্সের ৪ থেকে ৯ সেমিস্টার করেন সেখানে। দীর্ঘদিন দেশে আটকে থাকার কারণে এখন সেমিস্টার নষ্ট হওয়াসহ ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার ইচ্ছাটা কি পূরণ করতে পারবো না? এ প্রশ্নটা প্রতিদিন আমাদের মাথায় থাকে।’

কিরগিজস্তানের স্বীকৃত দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন। ৬ হাজার ডলারের প্যাকেজ নিয়ে দেশটিতে যান অনেকে। ৫ বছরে ১০ সেমিস্টার শেষ করতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার ডলার। কেবল টিউশন ফি বাবদ খরচ হয় প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। দেশে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরাও ২ বছরে ব্যয় করেছেন প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি।

ভুক্তভোগীরা উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হলে শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়নের সুযোগ দিতে কিরগিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় দূতাবাস। তবে সেই চিঠির কোনো জবাব আসেনি।

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব শুকলা বণিক ফোনকলে বলেন, ‘আমাদের ফরেইন মিনিস্ট্রি থেকে ২২/২৩ জনের একটা তালিকাও পেয়েছি। সেটাসহ আমরা একাধিকবার নোট ভার্বাল দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে কোনো রিপ্লাই পাইনি। আশা করছি এ মাসে আমাদের অ্যাম্বাসেডর যাবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ চলছে।

তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছেন। যেসব শিক্ষার্থী এখানে আটকা পড়েছে তারা যেন নিরাপদে ফেরত যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সে দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।’

বিদেশে চিকিৎসক হতে চাওয়া এসব শিক্ষার্থীর ভিসা জটিলতা নিরসন আদৌ সম্ভব হবে কিনা, নাকি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংশ্লিষ্ট পরিবার- দুটোই এখন নির্ভর করছে সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর।

খবর এখন টিভি।