ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বিদেশের মাঠ থেকে দেশের প্রতিভাবানদের খুঁজে নিতে স্কাউটিং টিম

কখনও ব্যক্তি উদ্যোগ, আবার কখনও সামাজিক মাধ্যমের সহযোগিতায় বাংলাদেশে এসেছেন তারা। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলারদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, কারও বা অপূর্ণতা রয়েছে। ডেনমার্কপ্রবাসী জামাল ভূঁইয়াকে দিয়ে প্রবাসী ফুটবলারের যে পথচলা শুরু হয়, গত এক বছরে সেই সংখ্যাটা বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রবাসী হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে যে উন্মাদনা যোগ হয়েছে, তা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

বিভিন্ন দেশে নানা পর্যায়ে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের এনে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। বিশ্বের আনাচে- কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের খুঁজে বের করতে বাফুফে বিশেষ আন্তর্জাতিক স্কাউটিং টিম গঠন করতে যাচ্ছে। জাতীয় দলের সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কাজও শুরু করে দিয়েছে তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে বাফুফের বর্তমান কমিটি।

স্কাউটিং টিমের সদস্যদের নিয়োগটা হবে চুক্তিভিত্তিক। তাদের বেতন দেওয়া হবে। জাতীয় ও বয়সভিত্তিক মিলিয়ে বর্তমানে জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারের সংখ্যা ১২। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা লিস্টার সিটির তারকা হামজাকে দেখে বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্নে গত বছরের জুনে প্রায় ৫০ জনের মতো প্রবাসীর ট্রায়াল হয়েছিল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেই ট্রায়াল থেকে হাতে গোনা কয়েকজন মন কেড়েছিলেন বাফুফের কোচিং স্টাফদের।

নিজ উদ্যোগে ট্রায়াল দেওয়া বেশির ভাগই যে পাড়া- মহল্লায় খেলা ফুটবলার, তাদের পারফরম্যান্সেই তা ফুটে ওঠে। তাই এমন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রবাসীকে জাতীয় দলে দেখতে চাইছেন না ফুটবল-সংশ্লিষ্টরা। স্কাউটিং টিম গঠন করে তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ করে সম্প্রতি মালদ্বীপে হওয়া অনুর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভানের হৃদয় নিংড়ে দেওয়া পারফরম্যান্সের পরই বাফুফে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

পৃথিবীর যে প্রান্তে বাংলাদেশের রক্ত, সেখানে স্কাউটিং টিম নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আর এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সমকালকে জানান বাফুফের অন্যতম সহসভাপতি ফাহাদ করিম, ‘স্কাউটিং টিম এখনও আমরা নিয়োগ দিইনি। এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। অনেকেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসতে চায়। কিন্তু তাদের মান বা তারা কোন পর্যায়ে খেলে, সেটি আমরা ভালোভাবে জানতে পারি না। তাই অনেক টাকা খরচ করে অনেকে এলেও তারা খেলার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন না। তাই প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে দুটি কিংবা তিনটি জোনে একটা ডে লং স্কাউটিং পোগ্রাম করব।’

প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যাটা বেশি ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তাই জোনভিত্তিক স্কাউটিং টিম গঠনের চিন্তা বাফুফের। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, আমেরিকায় এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো, যেমন— সুইডেন, ডেনমার্কে বিশেষ এই টিম গঠন করবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ঠিক কীভাবে এই টিম কাজ করবে, তার একটা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাফুফে।

ভবিষ্যতে যিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসবেন, তাঁর একটা ভালো পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে জানান ফাহাদ করিম, ‘মিনিমাম একটা লেভেল না হলে স্কাউটিংয়ে পার্টিসিপেট করতে পারবে না। আপনি পাড়ায় খেলতেছেন; চলে আসবেন, ও রকম হবে না। আমরা বলে দেব ইংল্যান্ডে হলে এই টায়ার, আমেরিকা হলে এই লেভেল, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান হলে এই লেভেল মিনিমাম থাকতে হবে। উচ্চ পর্যায়ে খেলা প্লেয়ারদের আমরা নোটিশ দেব। ওই লেভেল বা তার ওপরের যেসব প্লেয়ার ইন্টারেস্টেড, তারা রেজিস্ট্রেশন করবে। তাদের নিয়ে ঢাকায় একটা প্রোগ্রাম করব। কয়জন আসছে, কয়জন রেজিস্ট্রেশন করছে তার ওপর সিদ্ধান্ত করে টেকনিক্যাল কোচের সঙ্গে বা যে স্কাউটিং করবে, তার সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা করব।’

ভালো মানের প্রবাসী যারা বের করবেন, সেই স্কাউটিং টিমের সদস্যদেরও যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। বিদেশে ভালো মানের কোচিং অভিজ্ঞতা আছে কিংবা একাডেমির দায়িত্বে আছেন, সেসব পেশাদার ব্যক্তিকে বিশেষ স্কাউটিং টিমে নিয়োগ দেওয়া হবে। মূলত যারা ফুটবল নিয়ে কাজ করেন, তাদের যুক্ত করা হবে এই টিমে।

নিয়োগ দেওয়ার পর কীভাবে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে জানান ফাহাদ করিম, ‘তাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করব। সেখানে বলা থাকবে আমরা দুদিনের স্কাউটিং করব যুক্তরাজ্যে। উনার প্রয়োজনীয় সবকিছু আমরা ব্যবস্থা করে দেব। ছেলে হলে ছেলেদের কোচ আর মেয়ে হলে মেয়েদের কোচ যুক্ত থাকবে। তাদের আমাদের কোচদের সঙ্গে কোঅর্ডিনেট করে দেব। আমাদের দেশি কোচদের রিকোয়ারমেন্টগুলো তারা জানিয়ে দেবেন স্কাউটিং টিমকে।