ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ধর্মঘটের হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ভেন্যুকে ঘিরে অনিশ্চয়তা

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই মাস আগে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে সোফি স্টেডিয়াম, যেটি এই আসরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম এবং যেখানে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে।
প্রায় ২,০০০ কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে এবং ফিফার হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের অন্যতম বড় উদ্বেগ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সম্ভাব্য উপস্থিতি, যারা স্টেডিয়াম বা আশপাশে গোপন অভিযান চালাতে পারে।

ইউনাইট হেয়ার লোকাল ইলেভেন নামের এই ইউনিয়ন, যারা মূলত খাদ্য পরিবেশন কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করে, জানিয়েছে, গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে আইসিই’র উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কিছু অভিযানের ফলে দেশে উত্তেজনা বেড়েছে, এমনকি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের মধ্যেও ভয় রয়েছে যে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

অন্যদিকে, কর্মীদের চাকরির অবস্থাও অনিশ্চিত। স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী লিজেন্ডস গ্লোবালের সঙ্গে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু নতুন করে চুক্তি নবায়নের কোনো আলোচনা চলছে না। এছাড়া ইউনিয়ন ফিফার কাছে আরও কিছু দাবি জানিয়েছে:

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অটোমেশন ব্যবহার করে যেন মানব শ্রমিকদের চাকরি না কমানো হয়,
  • বিশ্বকাপ থেকে আয় হওয়া অর্থের একটি অংশ (প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার) শ্রমজীবী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে ব্যয় করা হয়, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে বাসস্থানের সংকট তীব্র।

ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কার্ট পিটারসেন বলেছেন, শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন, অনেকেই দুইটি চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা, কিন্তু বাস্তবে তারা আরও খারাপ অবস্থায় পড়ে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউনিয়ন ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এই স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ ছাড়াও গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচ, রাউন্ড অব ৩২-এর দুটি ম্যাচ এবং একটি কোয়ার্টারফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এখন দরকার দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান। প্রশ্ন হচ্ছে, ফিফা কি এই দাবিগুলো গুরুত্ব দেবে?