ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার একমাস হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে মামলার তিন আসামি। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভাগটির শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা। আসামি গ্রেফতারে পুলিশের সরাসরি গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে পুলিশ বলছে, এ মামলায় পুলিশের কোন গাফিলতি নেই।
জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকেলে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে বিভাগের সাবেক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এসময় নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকারী ফজলুর রহমানকেও নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় ওই কক্ষে দেখতে পাওয়া যায়। পরে তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় ইবি থানা পুলিশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হত্যাকান্ডের পরদিন গত ৫ মার্চ নিহতের স্বামী বাদি হয়ে ইবি থানায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করে। মামলার পরে তিন আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত। এদিকে মামলার পর প্রধান আসামি হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুরকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সর্বশেষ তার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
গ্রেফতার না হওয়া আসামিরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
এদিকে রুনা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাস ও কুষ্টিয়া শহরে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নিহেতের পরিবার বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ এবং সর্বশেষ কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করলেও বাকি আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। পুলিশের সরাসরি অবহেলায় আসামি গ্রেফতারে বিলম্ব হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের। শিক্ষার্থীরা বলেন, আসামি বিশ্বজিত ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরাঘুরি করলেও প্রশাসন তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। ম্যামের চারটি অবুঝ বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়েও তো প্রশাসনের এতোদিনে তাদেরকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল।
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বেও যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, মৃত্যুর পরে এখনও সেই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন এই ফজলুরকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটা নীল নকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। তারা বিশ্বজিত ও শ্যাম সুন্দরসহ যাদের বিরুদ্ধে বিভাগের অর্থ তছরূপের অভিযোগ রয়েছে সে ব্যাপারে এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, “এ মামলায় পুলিশের কোন গাফিলতি নেই। মামলা হওয়ার পরেই আমরা আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা আসামিদের বাড়ি একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। একজন আসামির বাড়ি সাতক্ষীরায়। তাকে গ্রেফতারের জন্য ওই এলাকার পুলিশ থানাতে চিঠি ইস্যু করেছি। আসামি গ্রেফতার ছাড়াও একটি মামলায় তদন্তের অনেক কাজ থাকে আমরা সেগুলো করে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে পুলিশ এ মামলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”





