চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ শাহেদ সম্প্রতি দলবদল করে বিএনপির পরিচয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মোহাম্মদ শাহেদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রী-নেতার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের সৈয়দ বাড়ি এলাকার বাসিন্দারা তাঁর আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনেকেই।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির ছত্রচ্ছায়া ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের এক অর্থদাতা আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আনোয়ারার ত্যাগী বিএনপি নেতারা কোথায়? আওয়ামী লীগের অর্থদাতা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে” তিনি আরও দাবি করেন, এটি আওয়ামী লীগের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “দলের দুর্দিনে আমরা নিজের অর্থ ব্যয় করে রাজপথে থেকেছি। আর সুদিনে টাকাওয়ালারা নেতা হয়ে যাবে—এটাই কি রাজনীতি”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শাহেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলবদল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আনোয়ারার রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।





