ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বাউল দর্শনের প্রচার বন্ধ চেয়ে ৩৭১ জন শিক্ষকের বিবৃতি

ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচার ভিত্তিক প্রচারণা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩৭১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’র পক্ষ থেকে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ১০০ জন অধ্যাপক, ৭৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৯৯ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৯৮ জন প্রভাষক রয়েছেন।

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ সবসময়ই ভিন্ন মত, পথ ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীল। বাউল দর্শন ও ধর্ম এই ভূমির একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। তবে বাউল দর্শন যেমন এ দেশের মূল জাতিসত্তার বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক, তেমনি তাদের দেহতত্ত্বনির্ভর রতিসাধনাও এ দেশের প্রচলিত নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাউলদের নিজস্ব দর্শনচর্চা ও আচার-অনুশীলন ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয় না, যতক্ষণ তা তাদের নিজস্ব পরিভাষা ও পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকে; এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মবিশ্বাস ও আচারকে সংক্রমিত না করে এবং তাদের নিজস্ব দর্শনকে প্রতারণামূলকভাবে প্রচলিত ধর্ম বিশেষত ইসলামের মোড়কে জনসমক্ষে উপস্থাপন না করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাউল আবুল সরকারের আচরণ এই সীমা অতিক্রম করেছে। আবুল সরকার একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের আয়াত বিকৃত ও অশুদ্ধ করে পাঠ করে যেমন কুরআনের অবমাননা করেছেন, তেমনি তর্কের বাহানায় আল্লাহর নামে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে এবং আল্লাহর শানে শিষ্টাচার বহির্ভূত অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছেন। একই সাথে তিনি বাউল দর্শনের শিরকি বক্তব্য অসচেতন শ্রোতাদের সামনে ইসলামের ছদ্মাবরণে উপস্থাপন করেছেন।

রাষ্ট্র ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আবুল সরকারের ধর্ম-অবমাননাকর, বিভ্রান্তিমূলক ও সামাজিক অস্থিরতা-উদ্রেককারী বক্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচারের প্রতারণামূলক প্রচার বন্ধ করা হোক।

বিবৃতিপ্রদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি), অধ্যাপক ড. মনজুরুল মুহম্মদ করিম (মাইক্রোবায়োলজি); বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফয়সল, বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাৎ কবীর, ডুয়েটের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আয়েশা আখতার (মেরিন সায়েন্স), সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (দর্শন বিভাগ); শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত (রসায়ন বিভাগ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ তওফিকুর রহমান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফিন (অর্থনীতি), ড্যাফোডিল ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোখতার আহমাদ প্রমুখ।