ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

লকডাউন ঘিরে ‘এলার্ট’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চলবে সাড়াশি অভিযান

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে ‘এলার্ট’ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতা প্রতিরোধে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স। এরই মধ্যে সড়কে মহড়া দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। চালানো হবে সাঁড়াশি অভিযানও।

আগামী ১৩ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে হওয়া মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতা চালাতে পারে- এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পলাতক দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দিতে দেখা গেছে। তবে এমন কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারপরও বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।

গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সময় রাজধানীতে মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দুই একটি জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণেরও ঘটনা ঘটেছে। তাই ১৩ নভেম্বর বড় ধরনের নশকতার শঙ্কা না করলেও বিষয়টি একেবারে হালকাভাবে নিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত শনিবার (৮ নভেম্বর) ডিএমপি সদর দপ্তরে হওয়া এক বৈঠকে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বাড়ানোসহ যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য ৫০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বৈঠকের পর ডিএমপির সাত হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রস্তুতিসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মহড়া দিতে দেখা গেছে। ডিএমপির পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীও আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে বলে জানা গেছে। আগামী সোমবার (১০ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে বাহিনীগুলোর সাঁড়াশি অভিযান।

র‌্যাব ও ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকার প্রবেশপথ, আবাসিক হোটেল, মেস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে বিশেষ তল্লাশি শুরু হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার, টহল ও সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমও বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এরই মধ্যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাচুত্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাত-সহিংসতা করার সক্ষমতা নেই। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে জমায়েত হতে না পারে সেজন্য সব থানাকে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যে কারণে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাড়া করা যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। রেল ও নৌপথেও বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।