ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬,৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

থালা হাতে শিক্ষকদের ভুখা মিছিল কাল

মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ তিন দাবিতে আগামীকাল বেলা ১২টায় খালি থালা হাতে ভুখা মিছিল করবেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তারা বলছেন, শিক্ষা উপদেষ্টা শতভাগ দাবি না মেনে কোনো আপোষ করার চেষ্টা করেন তাহলে তার পদত্যাগের ডাক আসবে।

শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ ঘোষণা দেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

এর আগে আন্দোলনের সপ্তম দিনে কালো পতাকা মিছিল করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এসময় তাদের শিক্ষা উপদেষ্টাকে নিয়ে ‘সি আর আবরার, আর নেই দরকার’ শ্লোগান দিতে শোনা যায়। পরে মিছলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারায় গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে।

সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, দেশের মন্ত্রী, আমলাদের বাড়ি ভাড়া শুধু নয় পুরো বাড়িই লাগে। কিন্তু আমারা ন্যায্য বাড়ি ভাড়া পাচ্ছি না। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঢাকার রাস্তায় শুয়ে, বসে ও ঘুমিয়ে দাবির কথা জানাচ্ছি; কিন্তু শোনার কেউ নেই।

আজ সকাল থেকে সপ্তম দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা আন্দোলন করছিলেন। গত রোববার থেকে তিন দাবিতে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তবে পুলিশ বাধা দিলে শিক্ষক–কর্মচারীরা সেদিন দুপুর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে অবস্থান নেন।

গত মঙ্গলবার সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ ছাড়া গত বুধবার তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও পরে তাঁরা সেই কর্মসূচি স্থগিত করেন।

গত বৃহস্পতিবার এক আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সরকারের অবস্থান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক রফিকুল আর আবরার। তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া তারা দিতে পারবে এবং সেটি ন্যূনতম ২ হাজার টাকা থাকবে। এখন যেখানে টাকা নেই, সেখানে এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এটা শিক্ষক-কর্মচারীদের জানানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই প্রস্তাবে রাজি নন। তারা বলেছেন, এখন ১০ শতাংশ দিতে হবে, সামনের বছর ১০ শতাংশ দিতে হবে।

এদিকে অনশন শুরু করা শিক্ষক–কর্মচারীরা জানান, তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে ফিরবেন না। তিনটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমরণ কর্মসূচি শুরুর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আমাদের দাবি একটাই। ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া দিতে হবে। শিক্ষকেরা আর কোনো কথা শুনতে চান না। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।