ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ১৭ কোটি টাকার ওষুধ আনলেন শীর্ষ শ্রেয়ান

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ানের উদ্যোগে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের জন্য নেদারল্যান্ডস থেকে বিনামূল্যে আনা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের আড়াই হাজার ভায়াল অ্যাল্টেপ্লেস ইনজেকশন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট জীবনরক্ষাকারী এই ইনজেকশনগুলো রামেকে এসে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে অন্তত ৫০০ রোগী বিনামূল্যে এই মূল্যবান ওষুধটি পাবেন।

রামেকের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শীর্ষ শ্রেয়ান স্ট্রোক নিয়ে গবেষণা করার সময় গবেষকদের মাধ্যমে একটি দাতা সংস্থার সঙ্গে পরিচিত হন। সেই সূত্র ধরেই তিনি এই ইনজেকশনগুলো বিনামূল্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। তার এই মহৎ কাজে সহযোগিতা করেছেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ।

জানা গেছে- স্ট্রোক প্রতিরোধ, চিকিৎসা এবং তা গবেষণায় কাজ করে ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএসও)। এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় শীর্ষ শ্রেয়ান তাদের একটি গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ওই গবেষণা প্রকল্পে শীর্ষ গবেষণা সহকারী ছিলেন। পরবর্তীতে গবেষণাপত্রটি জার্নালে প্রকাশিত হয়। এটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেরা গবেষণা হিসেবে নির্বাচিত হয়।

এটি দেখে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ-এর এশিয়া প্যাশিফিক রিজিয়নের ডিরেক্টর গর্ডন উইলকক অস্ট্রেলিয়া থেকে গত মার্চে শীর্ষকে ই-মেইল করেন। জানান, তারা রামেক হাসপাতালকে এল্টিপ্লেস অনুদান দিতে চান। সেটি নেওয়া, সংরক্ষণ করা ও রোগীদের প্রয়োগের মতো সক্ষমতা এই হাসপাতালের আছে কি না। ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ তখন বিষয়টি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আযাদের সঙ্গে আলাপ করেন। পরে গর্ডন উইলককের সঙ্গে তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

শীর্ষ শ্রেয়ান বলেন, ওই সংস্থার আঞ্চলিক ডিরেক্টর আমাকে ই-মেইলে জানিয়েছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ওষুধটি প্রয়োজন আছে কি না। থাকলে কী পরিমাণ। মোটামুটি ৫০০০ ভায়ালের মতো ছিল। এই খবরটি পাওয়ার পর আমি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলি। আমাদের এখান থেকে প্রায় ২৫০০ ভায়ালের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে গবেষণা করেছি। বাংলাদেশের ভাইরাস নিপা গবেষণায় কাজ করেছি। গবেষণার কাজের সময় চেনাজানা হয় তাদের সঙ্গে। আমাদের মেডিকেলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। হাসপাতালে যেসব ওষুধ থাকে না সেগুলোর একটা লিস্ট তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। এরপর হয়ত বা আমরা ওষুধ পাব।