যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ের কর্পোরেট ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের ঘরে এসেছে পুত্র সন্তান।
রবিবার (১৭ আগস্ট) তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন দিদারুলের স্ত্রী জামিলা ইসলাম। তার নাম রাখা হয়েছে আরহাম ইসলাম।
সোমবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে এক নতুন জীবন এসেছে পৃথিবীতে। আরহাম তার দুই বড় ভাই আহিয়ান ইসলাম ও আজহান ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তারা একসঙ্গে তাদের বাবার সেবা ও সাহসের উত্তরাধিকার বহন করে এগিয়ে যাবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, “আমি জানি, আরহামের জন্ম এ পরিবারের জন্য কতটা বিশেষ, যারা তাদের বীরকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আমাদের পুরো শহর তাদের পাশে আছে এবং সবসময় তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।”
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল পার্ক অ্যাভিনিউয়ের ৪৪ তলা বিল্ডিংয়ের লবিতে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন শেন তামুরা নামের ২৭ বছরের এক যুবক সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়। তামুরা এক নিরাপত্তা প্রহরী ও দুই বেসামরিক ব্যক্তিকেও গুলি করেন। এরপর তিনি আত্মঘাতী হন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেসিকা টিশ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনা ঘটানোর এক ঘণ্টা আগে শেন তামুরা লাস ভেগাস থেকে নিউইয়র্কে আসেন। তামুরা বহুতল করপোরেট ভবনের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান এবং পরে নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিক তদন্তে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। দিদারুল ইসলাম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত দিদারুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন। তিনি সেখানে মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।
দিদারুল ইসলামের চাচাতো ভাই মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম এনবিসি নিউজকে বলেন, “পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লালন-পালনের ভার ছিল দিদারুলের ওপর। যখনই তার সময় হত, বিশেষ করে ছুটির দিনে- তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে মসজিদে যেতেন।”
পুলিশ কমিশনার টিশ তার বিবৃতিতে বলেন, “নবজাতক, তার মা ও ভাইয়েরা নিউইয়র্ক গোয়েন্দা পুলিশ পরিবারের অংশ। জামিলা, আহিয়ান, আজহান এবং এখন আরহাম- তারা আজীবনই এনওয়াইপিডি পরিবারের সদস্য।”
প্রয়াত দিদারুলকে নিউ ইয়র্কেই দাফন করা হয়েছে।






