ঢাকা | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

বর্তমান বিএনপি সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী ইশতেহারের বিষয়গুলো ধারণ করা হবে। তিনি জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮-এ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি ফিরিয়ে আনা হবে, যা অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুক্ত করেছিলেন। এটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই জনগণকে গণভোট দিতে হবে। বিল পাশের পর এই সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য তারা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছে, ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন তা সহজে বাতিল করতে না পারে, সেজন্য এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোতে সংশোধনী আনতেও যেন গণভোটের প্রয়োজন হয়, সেই বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিল আসবে। আশা করা যাচ্ছে, জানুয়ারির অধিবেশনে (বছরের প্রথম অধিবেশন) বিলটি সংসদে আসতে পারে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী শেষে পাশ হলে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।