ফরিদপুরের সালথায় গাছ থেকে লিচু পাড়ার প্রতিবাদ করায় আজিজুর রহমান মোল্যা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুর রহমান ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মান্নান মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে আজিজুর রহমানের বাড়ির পাশের লিচু গাছ থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সীর দুই ছেলে সাকিল মুন্সী ও তুষার মুন্সী অনুমতি ছাড়াই লিচু পেড়ে খায়। এ সময় আজিজুরের ছেলে আকরাম মোল্যা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বিকেলে ফুলবাড়িয়া বাজারে আকরামকে একা পেয়ে মারধর করে সাকিল ও তার সহযোগীরা। এ সময় বাজারের অপর প্রান্তে ছিলেন আকরামের বাবা আজিজুর রহমান। ছেলেকে পেটাচ্ছে- এ খবর শুনে মারধরের স্থানে গিয়ে কেন তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তখন সাকিল মুন্সী ও আজিজুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাকিল ও তুষারসহ বেশ কয়েকজন বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আজিজুর রহমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। লাঠির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ মারধরের ঘটনার ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পরে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া বাজারের ভেতরে হট্টগোল চলছে। শার্ট প্যান্ট পরিহিত একদল উত্তেজিত যুবক লাঠিসোঁটা হাতে সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা আজিজুর রহমানকে মারধর করছে। এ সময় তাকে দুইবার মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। উত্তেজিত যুবকরা টানা-হেঁচড়া করে আজিজুর রহমানকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আশপাশে থাকা লোকজন চিৎকার করে তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ছিল বেপরোয়া।
অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আটকের জন্য পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।






