জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শেষ হলো দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎসব ইনোভার্স বাংলাদেশ ২০২৫। বেসরকারি সংস্থা হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন।
২ দিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবে ২ হাজার ২০০ জন প্রতিযোগী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ৪৫টি প্রজেক্ট এবং ১৫টি স্টার্ট আপ নিয়ে সাজানো ছিল ইনোভেশন এক্সপো।
সমাপনী দিনে রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, সায়েন্স অলিম্পিয়াড, ম্যাথ অলিম্পিয়াড, থ্রি মিনিটস রিসার্চ প্রেজেন্টেশন, ইনোভেশন এক্সপোসহ ১০টি ভিন্ন প্রতিযোগিতার মোট ১২৮ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদানের মধ্যদিয়ে জমকালো এই আয়োজনের পর্দা নামে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ সময় তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবন বাড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের এ ধরনের আয়োজন সরকারের এমন উদ্যোগগুলোকে সফল করতে ভূমিকা পালন করবে।
সমাপনী দিনে অন্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, বাংলাদেশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের সম্মানিত ফেলো এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. হাসিনা খান, বাংলালিংকের ডেপুটি সিইও জহরাত আদিব চৌধুরী, সিটি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহসিন হক এবং জুলাইয়ের শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের পরিজনবর্গ উপস্থিত ছিলেন৷
ইনোভেশন এক্সপো ঘিরে ২ দিন মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার জনসমাগম হয়। যেখানে বাছাইকৃত ৪৫টি উদ্ভাবনী প্রজেক্ট থেকে সেরা ৩টি প্রজেক্ট পায় জুলাই শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের স্মরণে শহিদ তানভীন ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড এবং ৩টি স্টার্ট আপ পায় ইনোভেঞ্চার্স ভল্ট অ্যাওয়ার্ড।
আয়োজকরা জানান, দেশের তরুণদের উদ্ভাবন ক্ষমতাকে বিশ্বব্যাপী জানান দেয়াই এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিযোগিতা ও অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও ২ দিনব্যাপী এ আয়োজনে শি-স্টেম ও নেদারল্যান্ডস অ্যাম্বাসির উদ্যোগে আয়োজিত হয় বিশেষ সেমিনার এবং স্কেচটক।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর আইসিটি ডিভিশনের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর উদ্বোধন ঘোষণার মধ্যদিয়ে ইনোভার্স বাংলাদেশের পর্দা ওঠে। ১৩০টি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইউটির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের অনারারি প্রফেসর ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী, আইসিটি ডিভিশনের এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুর রফিক, আইডিয়া প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক মর্তুজা জুলকার নাইন নোমান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. সোলায়মান প্রমুখ।






