রাজধানীর বাড্ডায় অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি’র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ জানিয়েছে, হুমকিদাতা ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন সাবেক ছাত্র। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে ‘টিপিক্যাল চায়নাম্যান’ নামে একটি ইমেইল থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ শাখা, রেজিস্ট্রার ও শিক্ষার্থীদের দাপ্তরিক মোট তিনটি ইমেইল ঠিকানায় একটি হুমকি বার্তা পাঠানো হয়।
ইমেইলটিতে নিজের পরিচয় উল্লেখ করে বলা হয়— আমি মুশফিক রাজিন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক বো/মা হা/মলা চালানো হবে। তোমরা যদি আমার মুখ দেখে থাকো, তবে মনে রেখো— যা ঘটতে যাচ্ছে তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই।
ওই হুমকির পর নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। ছায়াতদন্ত করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
ডিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তে নেমে তারা নিশ্চিত হন—হুমকিদাতা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। যদিও পড়ালেখা শেষ না করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং সেখান থেকেই ইমেইল বার্তায় হুমকি দেন। তবে ‘মুশফিক রাজিন’ নামটি ছদ্মনাম। হুমকিদাতার নাম ভিন্ন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থেই হুমকিদাতার আসল নামটি এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এদিকে ডিবি হুমকিদাতাকে শনাক্তের পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাড্ডা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলাকারী একাই, নাকি কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী এ হুমকির ঘটনায় জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। সাবেক ওই ছাত্র কেন এমন হুমকি দিলেন, সে বিষয়েও তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছে উগ্রবাদ প্রতিরোধে কাজ করা একাধিক সংস্থা।
বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় থানায় মামলা করা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় আমরা প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। পরে সাইবার ক্রাইম বিভাগ থেকে আমাদের মামলা করতে বলা হয়। গত ৭ অক্টোবর বাড্ডা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হুমকির বার্তায় উল্লেখ করা মুশফিক রাজিন নামে আমাদের কোনো ছাত্র নেই। এ নামে কোনো আইডি আমরা পাইনি। তদন্তে পাওয়া কোনো তথ্য আমাকে জানানো হয়নি। যদি কোনো তথ্য জানানো হয়ে থাকে, সেটি প্রক্টরকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
ডিবি ছায়াতদন্ত করলেও মামলাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া। তিনি বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার হুমকির ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি নিয়ে তিনি ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।





