দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কারিকুলামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চশিক্ষায় ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে এ সেমিনার হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও মূল্যায়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ‘সব কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও পথ সম্প্রসারণ।’
আয়োজনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল মো. মোর্শেদুল ইসলাম, উইজডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মজিদুল হক লিটন, সানিডেইল স্কুলের প্রিঞ্চিপাল ইয়াসমিন হাবিব, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর এবং বসুন্ধরার এর প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও হেড অব স্কুল মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ, সানবিমস স্কুলের প্রিঞ্চিপাল মুনিজে মঞ্জুর, স্কলাস্টিকা স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা মাদিহা মুর্শেদ, সাউথ ব্রিজ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মিসেস জিনাত আহমেদ, এবং ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের পরিচালক সৈয়দ পারভেজ আহসান।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক কারিকুলামে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত, কাঠামোগত ও প্রক্রিয়াগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, ও লেভেল ও এ লেভেলসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান নির্ধারণ, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোর সঙ্গে বিভিন্ন কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত প্রস্তুতির সামঞ্জস্য। অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের পক্ষে এসব বিষয় তুলে ধরেন সানিডেইল স্কুলের অধ্যক্ষ ইয়াসমিন হাবিব।
আলোচনায় মেধাভিত্তিক নির্বাচন ও শিক্ষার মান বজায় রেখে সব কারিকুলামের শিক্ষার্থীর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কারিকুলামের বিষয়বস্তু এবং মূল্যায়নপদ্ধতির পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি-ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সহজবোধ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সম্ভাব্য পথ নিয়েও মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কারিকুলামের শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
শিক্ষামন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা খাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সেমিনারে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমুজাদ্দেদী আলফাসানে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে বাংলাদেশের ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা খাতের অর্জন এবং জাতীয় উন্নয়নে এ খাতের বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে এ খাতের ভূমিকা আলোচিত হয়।
এ ছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগ, শিক্ষক ও কর্মীদের কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং দেশে–বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট, পিয়ারসন এডেক্সেল এবং অক্সফোর্ড একিউএ -এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কারিকুলাম ও মূল্যায়নব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির শর্ত ও প্রক্রিয়ার কার্যকর সমন্বয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে অ্যাকাডেমিয়া স্কুল, আগা খান একাডেমি, আল হাসানাইন, আনন্দনিকেতন, অ্যাসপেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আত-তাকওয়া স্কুল অ্যান্ড তাহফিজ, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বসুন্ধরা ও মিরপুর, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়াল (বিআইটি), বোস্টন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, ক্যাপস্টোন স্কুল, আর্থ হাউস স্কুল, এমিনেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, ফোকাস স্কুল, গোল্ডেন বাডস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গ্রিন জেমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল, কিডস ক্যাম্পাস স্কুল, লাইটহাউস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মাস্টারমাইন্ড (ঢাকা), মাস্টারমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, প্রিমিয়ার স্কুল ঢাকা, রেসালাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, স্কলাস্টিকা, স্যার জন উইলসন স্কুল, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাউথব্রিজ স্কুল, সামারফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সানবিমস, সানিডেইল, দ্য রেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ভিক্টোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উইজডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ইয়েল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।
এই সেমিনার ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গঠনমূলক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় সব কারিকুলামের শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় ন্যায্য সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাস্তবসম্মত নীতিগত সমাধানের পথে অগ্রগতি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।





