ঢাকা | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬,২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, খতিয়ে দেখবে জাতিসংঘ

২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্তে আগামী মাসে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহীন। ২৩ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। ইউনেস্কোর ঢাকা কার্যালয় এই সফরে তাকে সহায়তা করবে।

‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর তথ্য অনুযায়ী, মবের শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত আটজন মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন।

এছাড়া সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অন্তত ৯৪০ জন শিক্ষক এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

জোটের সভাপতি ও ঢাকা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বেদার উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার জানান, জোরপূর্বক পদত্যাগ, শারীরিক নির্যাতন ও কর্মস্থলে বাধার কারণে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বারবার আদালত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে শিক্ষকরা তথ্য-প্রমাণসহ জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকার কমিশনে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট থেকে সরকার জোরপূর্বক পদত্যাগ ও হেনস্তা বন্ধে একাধিক নির্দেশনা জারি করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ ও ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে চাকরি পুনর্বহাল, ইএফটিতে বেতন চালু এবং নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতের প্রজ্ঞাপন দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি।

শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, জাতিসংঘের এই তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে।