বগুড়ার শেরপুরে মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে একটি গুদামে আটকে রাখার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক শিক্ষার্থীর বাবা। তার অভিযোগ, পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর অভিযুক্ত এক কিশোর তাদের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ ঘটনায় দেওয়া লিখিত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
এ সম্পর্কে শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি পেয়েছেন। ৯ শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় একটি মুরগির গুদামে আটকে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এসআই কামরুল হাসান বলেন, এমন ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়নি।
গত সোমবার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে ৯ শিক্ষার্থীকে আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন কিশোর তাদের ডেকে নিয়ে যায়। প্রায় আট ঘণ্টা পর ছয় কিলোমিটার দূরে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি মুরগির খামারের গুদাম থেকে তাদের উদ্ধার করেন অভিভাবকেরা।
সোমবার রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমনের বাবা শুকুর আলী। তিনি পাঁচ কিশোরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ওই পাঁচ কিশোরের বয়স ১৫–১৭ বছর।
শুকুর আলী বুধবার বিকেলে বলেন, গত সোমবার রাতে তিনি ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত এক কিশোর (১৭) ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন তার ভাইয়ের স্ত্রীকে (ভাবি) হুমকি দেয়। অভিযুক্ত কিশোরেরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জানতে ওই কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





