ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাবিতে চালু হলো ক্যাশলেস সেবা, কমছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সহজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালু করেছে ক্যাশলেস সেবা।

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হলে এই ক্যাশলেস সেবা চালু করা হয়েছে এবং একটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব হল ও বিভাগে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই অনলাইন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ও বিভাগের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকায় ভবিষ্যতে সহজে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাগজভিত্তিক রসিদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঝামেলা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ কাগজের অপচয় রোধ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব আবাসিক হলে এখন পর্যন্ত শতভাগ ফি অনলাইনে নেওয়া শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো বেগম রোকেয়া হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, অমর একুশে হল, জগন্নাথ হল, সূর্যসেন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, কবি জসীমউদ্দীন হল। এসব হলে শিক্ষার্থীরা হল আসন বরাদ্দ, আবাসিক বা অনাবাসিক প্রত্যয়নপত্র, পুনঃ ভর্তি হল ক্লিয়ারেন্স, আইডি কার্ড বা কার্ড হারানো, সার্টিফিকেট বা প্রশংসাপত্র, মার্কশিট, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামসংক্রান্ত ফি এবং অন্যান্য হল নির্ধারিত ফিসহ যাবতীয় ফি অনলাইনে দিতে পারছেন। অন্যান্য হলেও শিগগিরই এসব ফি অনলাইনে নেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস।

ধাপে ধাপে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও শুরু হবে সেবা : এই সেবার আওতায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে বিভাগীয় পর্যায়ের সব ফি অনলাইনে নেওয়া। কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের প্রোগ্রামাররা জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউট যদি তাদের সব ফি অনলাইনে নিতে চায়, তাহলে তাঁরা সেটি চালু করতে দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘আমরা গত বছর থেকে চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের সেবাসংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় আছে, সেগুলোকে প্রায়োরিটি দিয়ে ডিজিটাইজেশন করে ফেলা। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি হয়, তা অনেকাংশে কমে যাবে ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। এর আওতায় আমরা প্রথমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির সম্পূর্ণ টাকা অনলাইনে নিয়েছি। এখন অন্যান্য সেবার ফি-ও অনলাইনে নেওয়ার কাজ চলমান আছে। আমরা ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজ অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি।’