পদোন্নতির দাবি আদায় এবং শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান অচলাবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। দাবি পূরণে প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদে এবার ‘অসহযোগ আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন তারা।
এর আগে, পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। যার ফলে গত ২১ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. তৌফিক আলম আমলে নিচ্ছেন না। যে কারণেই তারা অসহযোগ আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে আন্দোলন নিয়ে আমাদের আর কোনো আলোচনা হয়নি। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছি। আমাদের এই কর্মসূচিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একাত্মতা প্রকাশ করবেন বলে আশা করছি।’
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. হাফিজ আশরাফুল হক জানান, প্রশাসন থেকে কোনো সমাধান না মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অসহযোগ আন্দোলনের ফলে আমরা কোনো ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করব না। এমনকি আগামী ৩০ এপ্রিল যে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে, সেখানেও শিক্ষকরা অংশ নেবেন না।’
এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও। ববি কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি আরিফ সিকদার জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা আন্দোলনে থাকলে তারাও একাত্মতা পোষণ করবেন। তবে ববি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. তানজিম হোসেন জানান, তাদের নিজস্ব দাবির বিষয়ে ভিসি কোনো সাড়া দেননি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট ও শিক্ষকদের অসহযোগ আন্দোলনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলমকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন না হলে সেশন জটসহ দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে শিক্ষার্থীরা।






