ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

৪৭ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন ইসরায়েলের , প্রাণ গেছে ৩৮ জনের

ইসরায়েলি বাহিনী অক্টোবরের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে অন্তত ৪৭ বার—এমনটাই জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। এসব হামলায় প্রাণ গেছে ৩৮ জনের, আহত হয়েছেন ১৪৩ জন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের সংযোগস্থল রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হামাস বন্দিদের মরদেহ ফেরত আনতে যথেষ্ট চেষ্টা করছে না।

হামাস সম্প্রতি আরও দুজন বন্দির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর পরপরই তেল আবিবে বড় ধরনের প্রতিবাদ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজা থেকে সব বন্দির দেহ ফেরত আনার দাবিতে সরব হয়।

হামাস অভিযোগ করেছে, নেতানিয়াহু ‘তুচ্ছ অজুহাত’ তুলে ধরে যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত ৬৮,১১৬ জনের। আহতের সংখ্যা ১,৭০,২০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,১৩৯ জন, প্রায় ২০০ জনকে বন্দি করে নেওয়া হয়।

জাতিসংঘ বলছে, গাজায় অবিস্ফোরিত বোমা ও গোলার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের প্রধান লুক আরভিং জানিয়েছেন, এসব বিস্ফোরক সরানো হবে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল কাজ। এই তথ্য জানিয়েছে ওয়াফা বার্তা সংস্থা।

১৮ অক্টোবর, ২০২৫—গাজা সিটির এক আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পিছু হটার পর ড্রোন থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায় বিস্তীর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলার পরিকল্পনার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।

গত সপ্তাহে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হামাস সদস্যদের হাতে হাঁটু গেড়ে বসা কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করতে দেখা যায়। হামাস দাবি করেছে, তারা গাজায় সক্রিয় ‘ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর’ বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে—যারা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা, অপহরণ, ত্রাণ ট্রাক ছিনতাই এবং সহিংসতা চালাচ্ছিল।

হামাস জানিয়েছে, গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বাধ্য হয়ে এই অভিযান চালিয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘সেসব ছিল খুব খারাপ কিছু গ্যাং, যেটা আমাকে খুব একটা ভাবায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা এসব নিয়ে খোলাখুলি বলেছে, আমরা এক সময়ের জন্য তাদের অনুমতিও দিয়েছিলাম।’

আরও একটি ঘটনায়, রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বের তুরমুস’ইয়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি বাসিন্দারা ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরাকে এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

ওয়াফা জানায়, হামলাকারীরা সেখানে অলিভ পাড়ার কাজ করছিলেন এমনদের ওপরও চড়াও হয় এবং তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এ ছাড়া গ্রামের দুই প্রান্তে ইসরায়েলি সেনারা চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালায়।

আজ পশ্চিম তীরজুড়ে এমন হামলার ঘটনা বেশ কয়েকটি ঘটেছে।