ঢাকা | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বপ্ন পূরণে ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ইতালি পাড়ি, ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

স্বপ্ন পূরণের আশায় ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ইতালি পাড়ি দিয়েছিলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তোফায়েল আহমেদ। ভাগ্য পরিবর্তন করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। অবশেষে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের গোবিন্দের খিল মীন কাজি হাওলাদার বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। পরে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা শেষে তাকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

তোফায়েলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ করে ইতালি পাড়ি দিয়েছিলেন তোফায়েল। বিদেশে গিয়ে পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও অনিশ্চয়তা। এখন স্ত্রী ও চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের মা মনসুরা বেগম জানান, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সংসারের অভাব ঘোচাতে ধার দেনা করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ছেলে ভালোভাবে আয় করে পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাবে। কিন্তু আজ সেই ছেলেই কফিনবন্দি হয়ে বাড়িতে ফিরল। এই কষ্ট কোনো মা যেন না পায়। আমার ছেলের স্ত্রী ও চার সন্তানকে এখন কে দেখবে?

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বঙ্গ মুন্সী জানান, তোফায়েল আহমেদ খুবই ভালো ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই ঋণ করে ইতালি গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন ভালো মানুষকে হারিয়েছি। তার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবু মাস্টার জানান, তোফায়েল আহমেদ নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান জানান, তোফায়েলের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারটি কোনো ধরনের সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।