ব্যাটারদের সময় অপচয় বন্ধসহ ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের খেলার নিয়মে একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার ঘোষিত নতুন এই নিয়মে বলের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং ফিল্ডিংয়ের কিছু নিয়মেও আনা হয়েছে রদবদল।
আজ ১ অক্টোবর বা তার পর থেকে শুরু হওয়া প্রতিটি আন্তর্জাতিক সিরিজে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাটার বল খেলার জন্য প্রস্তুত হতে না পারলে প্রথমবার ভুলের জন্য দেওয়া হবে প্রথম সতর্কতা। দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে মিলবে শেষ সতর্কতা। আর তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতিবার নিয়ম ভাঙার মাশুল হিসেবে বোলিং দলকে দেওয়া হবে ৫ পেনাল্টি রান। বারবার এমনটা করলে বল গড়াবে আইসিসির আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) লঙ্ঘনের শাস্তিতেও।
গত বছর ভারত ও ইংল্যান্ডের অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে ঐতিহ্যবাহী লর্ডস টেস্টে সময় অপচয় নিয়ে বেশ শোরগোল হয়েছিল। দিনের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন দুই ইংলিশ ওপেনার জাক ক্রলি ও বেন ডাকেট। এতে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। এক পর্যায়ে মাঠে জাক ক্রলি ও গিলের মধ্যে বেশ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হতে দেখা যায়।
রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে বল ফিল্ডারের নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা নির্ধারণে আম্পায়ারদের হাতে এখন বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিল্ডারের বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। স্টাম্প ভাঙার সময় ফিল্ডারের হাত কেবল বলের স্পর্শে থাকলেই তা বল নিয়ন্ত্রণে রাখা হিসেবে গণ্য হবে না।’
টেস্ট ক্রিকেটে পরিবর্তন
আলোকস্বল্পতা কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়া কমাতে এখন থেকে সাধারণ দিনের টেস্টেও গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে; তবে সেক্ষেত্রে দুই দলেরই পারস্পরিক সম্মতি থাকতে হবে।
আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেই গোলাপি বল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এটি পুরো ম্যাচের জন্যই প্রযোজ্য হবে। ম্যাচ শুরু হয়ে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না, এমনকি লাল বল পরিবর্তন করে গোলাপি বলে যাওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না।’
এছাড়া দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেই আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে না। ওভারের কিছু বল বাকি থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোলিং দলকে সেই ওভারটি শেষ করতেই হবে। পরের দিন এসে ওভারের বাকি বল করার ঝক্কি এড়ানো, ফিল্ডিং দলকে সুবিধা দেওয়া এবং ম্যাচের রোমাঞ্চ ধরে রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টির নতুন নিয়ম ও ড্রিন্কস বিরতি
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মাঝে এখন ১৫ মিনিটের বিরতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটের নিয়মে সামঞ্জস্য এনে এখন থেকে পানিপানের বিরতিতে (ড্রিন্কস ব্রেক) দলের ‘প্রধান কোচ বা তাঁর প্রতিনিধিকে’ মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লেগ-সাইডে ওয়াইড দেওয়ার যে নিয়মটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল, সেটিকে সাদা বলের ক্রিকেটে স্থায়ী নিয়ম হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান সৌরভ গাঙ্গুলী এসব নিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিকেট বল সংক্রান্ত বিষয়, ফিল্ডিংয়ের কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্টতা আনা এবং খেলার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। খেলায় সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা মেটাতে এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। আলোচনা প্রক্রিয়ার গুণগত মান এবং কমিটির সব সদস্যের গঠনমূলক মনোভাবের কারণে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’








