ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা কলেজের উত্তর হলের ডাইনিংয়ে কুকুরের অবাধ বিচরণ

ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাসে ডাইনিংয়ে অবাধে কুকুর বিচরণে শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। কুকুরের বিষাক্ত ভাইরাস সংক্রমণে আশঙ্কায় কিছু শিক্ষার্থীর অসাবধানতা ও নিয়ম না মানাকে দায়ী করেছেন ডাইনিংয়ের কাজে নিয়জিত ব্যক্তিবর্গ ও হল কর্তৃপক্ষ। তবে সকলের সচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে বলে মনে করছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের উত্তর হলের ডাইনিংয়ে অবাধে বিচরণ করেছে ২টি কুকুর। কুকুর ডাইনিংয়ের টেবিলে এবং ব্যবহৃত খাওয়ার প্লেটে মুখ দিচ্ছে।

বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, ডাইনিংয়ে কুকুরের অবাধ যাতায়াত এবং কর্তৃপক্ষের অসতর্কতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে। টাকা দিয়ে খাবার খেয়েও যদি শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে এর দায়-ভার হল প্রশাসন বা ডাইনিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদেরই নিতে হবে। ডাইনিংয়ে কুকুর প্রবেশের বিষয়টি দেখার পরও হল প্রোভোস্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের না জানানো শিক্ষার্থীদের এক ধরণের ব্যর্থতা। প্রোভোস্ট বা সংশ্লিষ্ট কমিটি দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও কলেজ প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। ছাত্র ও কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

উত্তর হলের ডাইনিং ম্যানেজার মোঃ মুমিন বলেন, হলের ভেতরে রাতের বেলা খাবার দেওয়া নিয়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরে গেট খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। হলের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১১টার পর গেট আটকে দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ছাত্র নির্দিষ্ট সময়ের পরে বাইক নিয়ে বা বাইরে থেকে এসে গেট খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টাফদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের কুকুরগুলো ডাইনিংয়ের আশেপাশে বা হলের ভেতরে ঢুকে পড়ার কারণে খাবারে জীবাণু ছড়ানোর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ছাত্র ও স্টাফ উভয়ের জন্যই রোগবালাইয়ের কারণ হতে পারে। ডাইনিংয়ের ফ্লোর ও জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক দিয়ে ধোয়া হলেও ছাত্রদের সচেতনতার অভাবে এবং গেট খোলা থাকার কারণে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিষয়ে হল প্রভোস্টকে জানানো হলে তারা রাত ১১টার পর গেট আটকে রাখার নির্দেশ দিলেও কিছু ছাত্র ও বাইকধারী নিয়ম অমান্য করে স্টাফদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য হলের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে একজন করে সিকিউরিটি গার্ড রাখা এবং গেট বন্ধ রাখার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি। 

উত্তর হলের প্রভোস্ট মোঃ ইকবাল হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে কুকুরের চরম উপদ্রবের কারণে ডাইনিং থেকে শুরু করে আবাসিক হলের চারপাশ এবং রুমের আশপাশেও কুকুরের অবাধ যাতায়াত রয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এবং কুকুরগুলোকে অন্যত্র বা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার অনুরোধ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, রাতের বেলা ডাইনিংয়ের পানি খাওয়ার পর অনেক ছাত্র কলাপসিবল গেট খোলা রাখেন বা পুরোপুরি টেনে রাখেন না, যার ফলে সহজেই কুকুর হলের ভেতরে ও ডাইনিংয়ে ঢুকে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। হলের স্টাফ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও কুকুরের এই উপদ্রব এবং কিছু শিক্ষার্থীর এমন অসতর্কতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আরও বেশি সচেতনতা এবং কলেজ প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।