বরিশালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত পাঠগ্রহণ থেকে। নানা প্রতিবন্ধকতা আর অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসাথে ক্লাস হওয়ায় পিছিয়ে পড়ছে ঐ শিশুরা। পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরাও।

বরিশাল বিভাগে ছয় হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৬টি ক্যাটাগরিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু রয়েছে ১২ হাজারের মত। তবে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এসব শিক্ষার্থীদের জন্য নেই আলাদা কোন বিশেষ ব্যবস্থা। সব শিক্ষার্থীর ক্লাস চলে একসাথেই। এতে সাধারণদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা। তবুও সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে অক্লান্ত চেষ্টা অভিভাবকদের।

নানা প্রতিবন্ধকতায় সঠিক শিক্ষা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না স্বীকার করে স্কুলগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকার কথাও উল্লেখ করেন অনেকে।

এদিকে, শুধুমাত্র বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জন্য যেসব স্কুল রয়েছে তাও রুগ্নদশায় নিমজ্জিত। ভাঙা ভবন, আসবাবপত্র না থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব স্কুলগুলো। অভিজ্ঞ শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দেয়ার দাবি শিক্ষকদের।

বরিশাল অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক সিরাজুল মুনির টিটু বলেন, এই স্কুলে যেসব আসবাবপত্র ও সুযোগ সুবিধা দরকার তা নেই। শিক্ষার্থী অনুযায়ী শিক্ষকের সংকটও রয়েছে। বর্তমানে আমরা মাত্র তিনজন শিক্ষক নিয়েই এই স্কুলটি পরিচালনা করছি।

শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের কথা বললেন বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভাগীয় কার্যালয় উপ-পরিচালক এসএম ফারুক। তিনি বলেন, প্রশিক্ষনের মাধ্যমেই শিক্ষকরা তাদের ভালোভাবে শিক্ষাদান করতে পারবে। আর স্কুল পর্যায়ে আমরা এখন তাদের যতটুকু সম্ভব সেবা দেয়া তা দেয়ার চেষ্টা করছি।

পরিবার কিংবা সমাজের বোঝা নয়, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা বড় হয়ে উঠবে সুনাগরিক হিসেবে। রাষ্ট্রই তার সুব্যবস্থা করবে তেমনটাই দাবি সকলের।

(সূত্রঃ ডিবিসি)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here