সৌদি আরব রক্তপাত থামালেই আলোচনা: ইরান

সৌদি আরব নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত (ইয়েমেন যুদ্ধ) থামালেই দেশটির সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে ইরান। তখন আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়ে রিয়াদ আলোচনা করতে চাইলে তেহরান সে আহ্বানে সাড়া দেবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার  স্বার্থে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা করতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ইরানের সঙ্গে তার দেশের সম্ভাব্য আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে ইরাক ও পাকিস্তানের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জারিফ ওই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরব যখন ইরানের সঙ্গে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তখন তাকে ‘মানুষ হত্যা’ বাদ দিয়ে আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করার মানসিকতা পোষণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে রিয়াদ তেহরানকে তার পাশে পাবে।

জারিফ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে পরস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইরানের ঘোষিত নীতি। এই নীতির ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘হরমুজ শান্তি’ পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন এবং ‘আশার জোট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি আরব সফর করেন। এ সময় রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে তাকে অনুরোধ করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। যুবরাজ ইমরান খানকে বলেন, ‘আমি যুদ্ধ এড়াতে চাই।’ নিউ ইয়র্কে সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন পাকিস্তানি নেতা। রিয়াদের পক্ষ থেকে ইরাককেও অনুরোধ করা হয়েছে; তারাও যেন এ ব্যাপারে ইরানি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে।

মূলত ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দুই তেল স্থাপনায় হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে রিয়াদ। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। এরপরই ইরানের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান ও ইরাকের শরণাপন্ন হন এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করলেও শুরু থেকেই এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে আসছে সৌদি আরব। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারস্থ হয় রিয়াদ। কিন্তু দৃশ্যত রিয়াদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই নড়েচড়ে বসেন সৌদি যুবরাজ। মিত্র আমেরিকার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে এক রকম বাধ্য হন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রক্তপাত (ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন) থামালেই কেবল রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

সূত্র: পার্স টুডে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here