সিরাজাম মনিরার ইংরেজি উপন্যাস “ফলেন পেটালস”

‘অমর একুশে বইমেলা ২০২০’ এ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিরাজাম মুনিরার ইংরেজি উপন্যাস ‘ফলেন পেটালস’ (Fallen petals) প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় একজন নারীর অসহনীয় জীবন নিয়ে ইংরেজি ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘ফলেন পেটালস’ (Fallen Petals)।

মেলার প্রথম দিন থেকেই প্রকাশনাসংস্থা চিহ্ন (স্টল নং-৩)এ পাওয়া যাচ্ছে সহজ সরল ইংরেজি ভাষায় লেখা বইটি। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন এম এন হক।

চিহ্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বই উপন্যাসটিতে একটি ১৩ বছর বয়সী গ্রামীন মেয়ের অসহায়ত্বকে তুলে ধরে হয়েছে৷ বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে একজন নারী যেভাবে নিগৃহীত, অবহেলিত, শোষিত হচ্ছে সেটিরই বাস্তব রূপ তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। কাহিনীর মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়, শারীরিক ও মানসিক শোষণ, বহুবিবাহ ও সহোদরের প্রতি দায়িত্ববোধের ব্যাপারগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা সিরাজাম মুনিরা।

‘ফলেন পেটালস’ এই শিক্ষিকার যেকোনো ভাষায় লেখা প্রথম বই। তবে ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশি ডায়াসপোরা সাহিত্য বাদ দিলে তিনিই প্রথম নারী যিনি ইংরেজিতে উপন্যাস লিখেছেন। দি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের কন্যা তাহমিমা আনাম ও ‘দি ম্যারিজ কন্ট্রাক্ট’ এর লেখিকা তারা আহমেদ ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশি ডায়াসপোরা সাহিত্যের চর্চা করেছেন।

সিরাজাম মুনিরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

‘ফলেন পেটালস’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত। একটা মেয়েকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে যেতে হয় স্বামীর বাড়িতে। সেখানেও স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হতে হয়। পরিবারে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখার পরেও এরকম অবহেলার স্বীকার নারীরা। এই বিষয়বস্তুর মাধ্যমে সাবলীল ও সহজ ইংরেজিতে লেখা বই এটি। এসবের কারণে কিভাবে সামাজিক অবক্ষয়, বহুবিবাহ, তালাক, সঙ্গীর প্রতি হীনতা, শারীরিক ও মানসিক শোষণ হয়ে চলেছে তাই সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে।

তিনি বলেন, অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। ছাত্র ও সহকর্মীদের অনেকেই বইটি পড়ে অনেক আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। অনেকে বলছেন, আর্নেস্ট হেমিংয়ের মতো সুন্দর করে বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই উপন্যাসে। ভালো কিছুই হচ্ছে, সামনে আরও একটি কাজ নিয়ে আসছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here