সরকারি খরচে তুরস্কে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তুরস্কে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির সরকার। স্কলারশিপের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা। এ লক্ষ্যে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে সর্বসাকুল্যে ৭০-৮০ জনকে এই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। প্রত্যেক বছর ইউরোপ-আমেরিকা সহ বিশ্বের ১৫০ টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।

সুযোগ সুবিধাসমূহ:
বৃত্তির অধীনে যা যা থাকবে (সম্পূর্ণ তথ্য পেতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন):

*হোস্টেল: অনার্সের ছাত্রদের জন্য থাকা-খাওয়া সম্পূর্ন ফ্রি। মাস্টার্স এবং পিএইচডি ছাত্ররা প্রথম বছর এই সুবিধা পাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে তাদের জন্য প্রতি মাসে থাকা-খাওয়া বাবদ ৫৫০ লিরা নগদ প্রদান করে থাকবে। কেউ চাইলে ফ্যামিলি সহ থাকতে পারবেন।
*সরকারী হেলথ ইন্সুরেন্স
*ইউনিভার্সিটি টিউশন ফি
*মাসিক বৃত্তি বাবদ অনার্সে ৮০০ লিরা, মাস্টার্সে ১১০০ লিরা এবং পিএইচডিতে ১৬০০ লিরা।
*প্রথমবার তুরস্কে আসার সময় এবং কোর্স শেষে দেশে যাওয়ার সময় মোট দুইবার বিমানের টিকেট দেওয়া হয়।
*প্রথম এক বছর (৯ মাস) ফ্রি তুর্কি ভাষা শিক্ষা কোর্স।
*ইউনিভার্সিটির মূল কোর্সে ভালো রেজাল্ট থাকলে ইরাসমুস সহ বিভিন্ন এক্সচেন্জ প্রোগ্রামে ইউরোপের যেকোন দেশে ১ সেমিস্টার/ ইয়ার পড়ার সুযোগ।

আবেদনের যোগ্যতা:

আবেদন করার জন্য যা যা যোগ্যতা থাকা লাগবেঃ

*আপনি তুরস্কের নাগরিক না
*তুরষ্কের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভর্তি হন নাই
*গড় মার্ক ৭০% তবে মেডিকেল ছাত্রদের বেলায় ৯০%

বয়স:

*স্নাতকের জন্য আবেদন করতে বয়স হতে হবে ২১ বছরের নিচে।
*স্নাতকোত্তর জন্য আবেদন করতে বয়স হতে হবে ৩০ বছরের নিচে।
*পিএইচডির জন্য আবেদন করতে বয়স হতে হবে ৩৫ বছরের নিচে।
*রিসার্চ প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে বয়স হতে হবে ৪৫ বছরের নিচে।

যেসকল স্থানের প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ সকল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

আবেদন পদ্ধতি:

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে আবেদন প্রক্রিয়া প্রতি বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় একমাস চলমান থাকে। এ বছর ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারিতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টায় শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে যেকোন দিন আবেদন করা যাবে।

লক্ষণীয় যে, একসাথে পুরো আবেদন শেষ করতে হবে এরকম কোন শর্ত নেই। প্রথম দিন শুরু করে শেষ দিনও কমপ্লিট করতে পারেন।

বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া খুব একটা কঠিন হবে না;

*ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি একাউন্ট/বা প্রফাইল তৈরী করতে হবে
*এরপর আদেবন পত্র পুরণ করতে হবে
*সার্টিফিকেট, ছবি, পার্সপোট অথবা ন্যাশনাল আইডি আপলোড করবেন
* প্রোফাইলের শেষ অপশনে সাবজেক্ট এবং ইউনিভার্সিটি সিলেক্ট করবেন

ইংরেজি ভাষা দক্ষতা কোর্স লাগবে কি না?

ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা হিসেবে অনেকের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে IELTS একটি বড় বাধা।
এখন প্রশ্ন হলো তুরস্কের স্কলারশিপের ব্যাপারে IELTS বা অন্য কোনো পরীক্ষা বাধ্যমূলক কি না? তাদের জন্য বলা হচ্ছে, IELTS এর দরকার পড়বেনা। তবে আপনি যে ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করছেন যদি ইউনিভার্সিটির রিকোয়ারমেন্টে IELTS / TOFEL থাকে তাহলে IELTS / TOFEL লাগবে ।

তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে; স্কলারশিপের স্টুডেন্টদের এক বছর তুর্কি ভাষার কোর্স করে তার্কিশ ভাষায় পড়তে হয়, তবে এই বিষয়টা অনেক ক্ষেত্রেই ইউনিভার্সিটির উপরও নির্ভর করে ।

থাকা-খাওয়া ফ্রি তার উপর মাসিক ভাতাও পাওয়া যাবে। তবে আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা করতে চান তাহলে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা দেখাতে হবে – GRE, GMAT ইত্যাদির স্কোর দিতে হবে।

যেসব ডকুমেন্ট দিতে হবে:

*প্রাতিষ্ঠানিক সকল সনদপত্র
*প্রাতিষ্ঠানিক সকল সনদপত্রের ফটোকপি
*ট্রান্সক্রিপ্ট
*এক কপি পরিচয়পত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা জন্ম সনদ)
*পাসপোর্ট সাইজ ফটো

ডকুমেন্ট স্ক্যান করে পিডিএফ ফাইল বানানো যায়।

আপনাকে লেটার অফ ইন্টেন্ট, রেফারেন্স লেটার এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। এই লেখাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই আগে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিৎ।

(আবেদন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ তথ্য পেতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিসিট করুন)

আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here