সবুজ নগরীতে অতিথিদের আগমন

চারদিকে শীতের আবহ। রাতে কুয়াশার মায়াজাল, সকালে শিশিরকণার আস্তরণ। ঋতুবদলের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ হয়েছে নৈসর্গিক ভিন্ন মাত্রা। বরাবরের মতো এবারও রক্তকমল শোভিত লেকগুলোয় আসতে শুরু করেছে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় প্রায় ২২টি লেক থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হলসংলগ্ন লেক, জিমনেসিয়াম-সংলগ্ন লেক ও ডব্লিউআরসি (ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার)-সংলগ্ন লেকে অতিথি পাখির পদচারণ বেশি। প্রতি বছরই উত্তরের শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশে আসে। মূলত নভেম্বরের প্রথম দিকে এরা আসে, আবার মার্চের শেষ দিকে ফিরে যায়। এই প্রেক্ষাপটে একদিকে জাবির লেকগুলো পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি এদের দেখার জন্য ভিড় করছে উৎসুক প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। ঝাঁকে ঝাঁকে আসা পাখিরা লেকের জলে মেতে থাকছে স্বতঃস্ফূর্ত জলকেলী আর ডুব-সাঁতারে। কখনো এরা চক্রাকারে উড়ছে ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশজুড়ে। সব মিলিয়ে পাখির কিচিরমিচিরে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে ইন্দ্রিয়বিলাসী কলরবের আবহ; যা দেখে দর্শক বিমোহিত হচ্ছেন। তবে এবছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোলাহলমুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই গত বছরের তুলনায় অধিক অধিক অতিথি পাখির আগমন ঘটবে বলে অনুমান করা যায়।

বাংলাদেশে মোট ৬৯০ প্রজাতির পাখির মধ্যে প্রায় ২৩৮ প্রজাতির অতিথি পাখি আছে। ১৯৮৬ সাল থেকে এ ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির পদচারণ। সে সময় জাহাঙ্গীরনগরে ৯০ প্রজাতির পাখি দেখা যেত। বর্তমানে ১৯৫ প্রজাতির পাখি দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে ১২৬টি দেশি ও ৬৯টি পরিযায়ী বা অতিথি প্রজাতির। দেশি প্রজাতির মধ্যে ৭৮টি ক্যাম্পাসে নিয়মিত থাকছে। তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব অতিথি পাখি আসে এর বেশির ভাগই হাঁস-জাতীয় ও পানিতে বসবাস করা। এর মধ্যে প্রায় ১০ প্রজাতির হাঁস-জাতীয় পাখি ক্যাম্পাসে দেখা যায়। এর মধ্যে ছোট সরালি, বড় সরালি, খঞ্জনা, পাতারি হাঁস, ভূতিহাঁস, খুন্তেহাঁস, লেঞ্জাহাঁস, গার্গেনী, ঝুঁটিহাঁস প্রধান।

অতিথি পাখির সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও। প্রতি বছরই শীতের সময়টাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় জাবিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। পরিবার পরিজন মানুষ ছুটে আসে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সাথে অতিথি পাখি দেখতে। পাখির কূজনের সাথে শিশুদের কোলাহলে উতসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়েই। এবারও তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না।

লেখক: ফাইজার মো শাওলীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here